স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ ফেব্রুয়ারি :আগরতলা শহরের বটতলা এলাকার হাওড়া মার্কেট অন্যতম নেশা কারবারি থেকে শুরু করে অসামাজিক কার্যকলাপের আকড়া ছিল দীর্ঘদিন ধরে। শেষ পর্যন্ত আগরতলা পৌর নিগমের পক্ষ থেকে এই হাওড়া মার্কেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কারণ হাওড়া নদীর তীরে বিনোদন পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। পার্ক ঘেঁষা যদি এই হাওড়া মার্কেট থাকে তাহলে আগামী দিন পর্যটকরা পার্কে এসে বিভিন্ন সমস্যায় পড়বে। সেই কথা মাথায় রেখে নিগমের পক্ষ থেকে মার্কেটটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরঞ্জাম ছড়িয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। সে মোতাবেক কেউ কেউ সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়। তারপর রবিবার সকাল থেকে নিগম ভাঙ্গার কাজে হাত লাগায়। বুলডোজার দিয়ে ময়দান করে দেয় হাওড়া মার্কেট। মার্কেটটি আগামী দিন আধুনিক ভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পরবর্তী সময় পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা জানিয়েছেন আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। তিনি বলেন যাদের কাছে ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে তারাই আগামী দিন ব্যবসা করার জন্য নয়া মার্কেটে সুযোগ পাবে। কারণ এই হাওড়া মার্কেটে কিছু ব্যবসায়ী নিগমের সঙ্গে একমত। তাই তাদের কিভাবে পুনর্বাসন দেওয়া যায় সে বিষয়ে চিন্তা করছেন নিগম কর্তৃপক্ষ। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থের উপর কোনোভাবেই আচ আসতে দেবে না। শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে নিগম অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে পূর্বতন বামফ্রন্ট পরিচালিত নিগমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগরতলা শহরে যখন উড়ালপুল হয়েছিল তখন হাজার হাজার ব্যবসায়ীকে কিভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে সেটা সকলেই জানে।
এবং তাদের জন্য কোন রকম পুনর্বাসনে ব্যবস্থা করা হয়নি। মেয়র আরো বলেন, গত এক বছর আগে বটতলা এলাকায় যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল তারা দেখা গেছে পরবর্তী সময়ে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেছেন এবং আদালতে পর্যন্ত গিয়েছেন। না হলে তাদের আরো অনেক আগেই পুনর্বাসনে ব্যবস্থা হয়ে যেত। তাই উচ্ছেদ হওয়া কোন হকার যাতে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কথা শুনে রাস্তায় না বসে নিগমের কাজে সহযোগিতা করে। শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য চেষ্টা করছে নিগম। একই সঙ্গে তিনি আরো জানিয়ে দেন এই হওড়া মার্কেটে আগামী দিন কোন মদের দোকান, জোয়ার আসর সহ কোন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ থাকতে পারবে না। এটা যাচাই করেই ভীটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। এদিন মেয়রের সঙ্গে পরিদর্শনে ছিলেন পুর কমিশনার সহ নিগমের টাস্কফোর্স।

