স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ জানুয়ারি: মঙ্গলবার দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস -সহ একাধিক সংগঠন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এর জেরে মঙ্গলবার দেশের সঙ্গে রাজ্যে ও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল। তবে দেশের বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে এই ধর্মঘটের প্রভাব নাও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ থাকার ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্রাহকদের। শুক্রবার সরস্বতী পূজা, চতুর্থ শনিবার এবং রবিবারের পর সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবস থাকায় চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবারও এই ধর্মঘটে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু কিন্তু গ্রাহক পরিষেবার কথা মাথায় না রেখে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ব্যাংক কর্মচারীরা সেটাই আরো একবার প্রমাণ করল মঙ্গলবার। আবার তাদের উপর ভরসা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের। মঙ্গলবার গ্রাহকরা ব্যাংকে এসে ফিরে গেছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও সরকারি প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল গ্রাহকরা ব্যাংকে এসেছিলেন টাকা তোলার জন্য। এসে দেখেন ধর্মঘট চলছে তথাকথিত দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
গাড়ি ভাড়া ব্যয় করে এবং শারীরিক দুর্বলতাকে চ্যালেঞ্জ করে এসেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের। এমনকি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প পর্যন্ত এই ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। গরিব মানুষ প্রতিদিন পাসবুক হাতে নিয়ে ব্যাংকে ছুটে যান। বিভিন্ন প্রকল্পের কিছু টাকা তুলে তারা সংসার পরিচালনা করেন। তাদের জীবনযাপনের কথা না ভেবে এবং জনগণের পৌঁছায় মোটা অংকের মাইনে পাওয়া বাবুরা আবার ৫ দিন কাজ, দুদিন ছুটি চাইছে সপ্তাহে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বলে মনে করছে সাধারণ নাগরিক মহল। এদিকে বুধবার থেকে ব্যাংক খোলা হলেও, পাহাড় সমান কাজ সামাল দিতে যখন হিমশিম খাবে তখন এর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যাংকে ব্যাংকে থাকবে দীর্ঘ লাইন। কিন্তু বাবুদের এসি, খাবারের টাইম সবকিছুই ঠিকঠাক রেখে জলাঞ্জলি দেওয়া হবে গ্রাহকদের মূল্যবান সময়। তাদের উপর ভরসা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা!এদিকে ধর্মনগর সহ গোটা রাজ্যে লক্ষ্য করা যায় ব্যাংক ধর্মঘটে ব্যাপকতা। নাভিশ্বাস তুলছে গ্রাহক পরিষেবায়। মাসে অতিরিক্ত বন্ধ সহ সাপ্তাহে দুদিন ছুটি মিলিয়ে দেখা যাবে তাহলে প্রায় ১৫ দিন কাজ, বাকী দিন ব্যাঙ্কের কাজ পড়ে থাকবে।

