স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ জানুয়ারি : সাংবিধানিক পদে আসীন থেকে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা খুশি তাই বলে যাচ্ছেন। পাপাই হত্যাকাণ্ড, ভোটের আগে লাগামহীন সন্ত্রাস, জনজাতি এলাকায় শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি না করা, ১৯৮০ সালের দাঙ্গা, ইত্যাদির জন্য দায়ী তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলছেন বিজেপি এবং তিপরা মথার মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি করার জন্য অন্যতম দায়ী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করছেন ত্রিপুরায় উগ্রপন্থীর জনক সিপিআইএম।
এই কথাগুলি অত্যন্ত কাল্পনিক এবং অসত্য। সাংবিধানিক পদে আসীন থেকে এবং দলের রাজ্য স্তরে সর্বোচ্চ নেতা হয়ে এ ধরনের মিথ্যে কথা নিয়ে উনার সংযত হওয়া প্রয়োজন। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর কেউ আঙ্গুল তুললে এটা গোটা রাজ্যের লজ্জা হয়। বুধবার বিধানসভায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন বিজেপি-র ইঞ্জিনের সাথে যে ইঞ্জিন দুটি যুক্ত রয়েছে তারাই ১৯৮০ সালে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এডিসি গঠন হওয়ার পর সেই দলের চার দফা দাবির মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল রাজ্য থেকে বিদেশী বিতরণ করা। একই দাবিতে এখনো তারা অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের নাম দিয়ে অনড় রয়েছে। এমনকি তৎকালীন সময়ে সেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যে রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিল সেই দলের মধ্যে ছিলেন বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সুতরাং বরাবরই তারা এডিসি বিরোধী। এগুলি স্বীকার না করে এখন তারা বামফ্রন্ট সরকারের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিরোধী দলনেতা আরো বলেন পাপাই হত্যাকান্ডের সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সেইসময় যে দলে ছিলেন সেই দলের গোষ্ঠী কোন্দলের জন্য পাপাই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এর পেছনে বামফ্রন্ট সরকারের কোন হাত ছিল না।
বিরোধী দলনেতা সরকারকে কোনঠাসা করে আরো বলেন বামফ্রন্ট সরকারের সময় কোন রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয় আক্রান্ত হতো না। ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয় একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করছেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময় ভোটের আগে এবং পরে সন্ত্রাস হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় সারা বছরই সন্ত্রাস চলছে। অপরদিকে অপরাধমূলক কার্যকলাপে যারা মূল মাস্টারমাইন্ড তাদের জালে তুলছে না পুলিশ। এগুলি সমস্ত কিছু জেনেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার প্রয়োজন। ২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা বলেন বিজেপির শরিক দল তিপরা মথা ২২ টি আসনে যদি প্রার্থী না দিত তাহলে সবগুলি আসনেই সিপিআইএমের দখলে আসতো। বিরোধী দলনেতা সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে কোন অবৈধ জোট ছিল না ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে। শুধুমাত্র আসন ভাগাভাগি করে লড়াই করেছিল দুই দল। কিন্তু বিজেপি, আইপিএফটি এবং তিপরা মথার মধ্যে সুবিধাবাদী জোট সৃষ্টি হয়ে আছে। দুই দলই জোট, হট কারী রাজনীতি করছে তারা। তাদের এ বিষয়গুলি শীর্ষ নেতৃত্ব দ্বারা মীমাংসা না করে অন্য রাজনৈতিক দলগুলির দিকে আঙ্গুল তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিপরা মথার অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের দিয়ে এম্বুলেন্স, জলের গাড়ি আটকে আন্দোলন চলছে। এমনকি তাদের মধ্যে দাবি রোমান হরফের। সেই দাবি মানছে না বর্তমান সরকার। কিন্তু পূবর্তন সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের রোমান হরফ এবং বাংলা হরফের দাবি মেনেই পরীক্ষা গ্রহণ করত বলে দাবি জানান বিরোধী দলনেতা।

