Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যডেলিভারি বয় মৃত্যু কাণ্ডে ধৃত আরো দুজনকে জেল হেফাজতে পাঠালো আদালত

ডেলিভারি বয় মৃত্যু কাণ্ডে ধৃত আরো দুজনকে জেল হেফাজতে পাঠালো আদালত

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ ডিসেম্বর : ধর্মনগরের চাঞ্চল্যকর ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ সরকার মৃত্যু মামলার তদন্তে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ১৪ দিনের মধ্যে পলাতক থাকা অভিযুক্তরা অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল। এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম দুই অভিযুক্তকে শনিবার জালে তুলেছে ধর্মনগর থানার পুলিশ। ধৃত দুই অভিযুক্ত হলেন— মেঘদ্বীপ ভট্টাচার্য, বাড়ি মধ্য নয়াপাড়া এবং পিউ ধর, বাড়ি দক্ষিণ হারুয়া এলাকায়।

 পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসাম রাজ্য থেকে ত্রিপুরায় ফেরার পথে চুরাইবাড়ি থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে একজনকে থানার সামনে থাকা নাকা পয়েন্ট থেকে আটক করা হয়েছে। অপরজনকে প্রেমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তা জনিত কারণে প্রথমে তাদের চুরাইবাড়ি থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রসেনজিৎ সরকারের রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই এই দুই অভিযুক্ত রাজ্য ছেড়ে আত্মগোপন করেছিল। ধৃতদের ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হয়। আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী অভিযুক্তদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি তাদের জামিন আবেদন  মঞ্জুর করেন নি এবং আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযুক্তদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তারই সাথে নির্দেশ দেন পুলিশ যেন জেলের মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।

এই পাঁচ জন অভিযুক্তকে ৩০ ডিসেম্বর আবার আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় ধর্মনগর থানার মামলা নং 2025DMN122, তারিখ ১৪/১২/২০২৫, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা 329(4)/115(2)/103(1)/3(5) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার ধৃত দুই বাকি  অভিযুক্তকে সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে ধর্মনগর জেলা আদালতে পেশ করা হয়। উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগে সুস্মিতা ভট্টাচার্য, সংগীতা ভট্টাচার্য ও সৌরভ ভট্টাচার্য—এই তিন অভিযুক্তকে শ্রীভূমি জেলার একটি স্থানীয় রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল উওর জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতে পেশ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলে হেফাজতে পাঠানো হয়। শুধু তাই নয় মাননীয় আদালত নির্দেশ দিয়েছেন তাদের জেল হেফাজতের মধ্যেই যেন ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার এবং মামলা নথিভুক্ত হওয়ার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে উত্তর জেলা পুলিশ। প্রসেনজিৎ সরকারের মৃত্যুর পর থেকেই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। এই দুই মূল অভিযুক্ত ধরা পড়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য