Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যজমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আক্রান্ত মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, মামলা নিতে চায়...

জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আক্রান্ত মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, মামলা নিতে চায় না পুলিশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ ডিসেম্বর :  কাঠগড়ায় তথাকথিত সুশাসন, সুশাসন কালিমা লিপ্ত করছে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ! একজন নারী নির্যাতিত হয়ে থানায় গিয়ে বিচার চাইলে পুলিশ বলছে মুখে মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য বলে অভিযোগ। গুন্ডাদের পক্ষে হয়ে মহিলার বিচার দিতে চায় না পুলিশ। আক্রান্ত মহিলা হাসপাতালে শয্যাশায়ী। জীবন যুদ্ধ যেন বিচার যুদ্ধকে পিছে ফেলে দিচ্ছে। তাই সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হলেন তিনি। জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এক মহিলাকে মারধর করে তার প্রতিবেশী বলে অভিযোগ। ঘটনা তেলিয়ামুড়ায়।

এমনকি তেলিয়ামুড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর পরও কোন ধরনের সহযোগিতা পায়নি সেই অসহায় মহিলা। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার পর বর্তমানে আই জি এম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত মহিলা। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে শনিবার জিবি হাসপাতালের রেফার করা হয়। আক্রান্ত অসহায় মহিলা জ্যোতি আচার্য চক্রবর্তী জানান, গত চার বছর ধরে পার্শ্ববর্তী বাড়ি মধু দাস জ্যোতি আচার্যের স্বামী রামু আচার্যের কাছ থেকে বাড়ি জবর দখল করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাড়িতে নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত রামু আচার্যের মৃত্যুর পর বিধবা জ্যোতি আচার্যের কাছ থেকে জমিটি জবরদখল করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন অভিযুক্ত মধু দাস। কিন্তু কোন ভাবে জমি জবরদখল করতে না পারায় গত এক বছর আগে মারধর করে আহত করেছিলেন। তখনও জিবি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন জ্যোতি আচার্য।

 বিষয়টি মহকুমা শাসক অফিসে জানানোর পর বলেছিলেন যদি ছয় মাসের মধ্যে মধু দাস না শোধরায় তাহলে তাদের ৬ মাসের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু প্রশাসনের চরম উদাসীনতা এবং মধু দাসের সঙ্গে গোপন বোঝা করার কারণে আর গ্রেপ্তার হতে হয় নি। প্রশাসনের এ ধরনের খামখেয়ালীপনার জন্য প্রশ্রয় পেয়ে গেল অভিযুক্ত এবং তার পরিবার। গত ২১ ডিসেম্বর আবারো বাড়িতে এসে মধু দাস, গৌরী দাস এবং শেফালী দাস মিলে বেধড়ক মারধর করেছে বলে অভিযোগ জ‌্যোতি আচার্যের। তারপর তিনি বিষয়টি তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ বলেন বিষয়টি মুখেই মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য। মামলার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু অভিযুক্ত তিনজনের মারধরে গুরুতর আহত জ্যোতি আচার্য তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাকে ভর্তি রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে আইজিএম হাসপাতালে রেফার করা হলে তার অবস্থা আশঙ্কা জনক দেখে শনিবার জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। জ্যোতি আচার্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন এক সমাজসেবী মহিলা এবং তার বোন। জ্যোতি আচার্যের একমাত্র ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই। অথচ সেও ছোট। বিচার চাওয়ার জন্য সংবাদ মাধ্যম ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে পায়নি। তেলিয়ামুড়া থানার রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত পুলিশের উপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন হাসপাতালে বিছানায় শয্যাশায়ী জ্যোতি। বারবারই প্রান ভিক্ষাকে বলছেন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উনার ছোট ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই। প্রশাসনকে পাশে পান নি তিনি। সরকার যদি পাশে দাঁড়িয়ে বিচার পাইয়ে দেয় তাহলে তিনি নিরাপত্তা পাবে। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে স্বামীহারা অসহায় মহিলা। এখন এটাও দেখার বিষয় রাজ্যের মহিলা কমিশন কতটা মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে বিচার পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করে। নাকি সবটাই ধাপাচাপা করে যায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য