Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যবুল ডজারের দাপটে ঠাঁই হলো না ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বার ও তিনদিনের শিশুর, উচ্ছেদ...

বুল ডজারের দাপটে ঠাঁই হলো না ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বার ও তিনদিনের শিশুর, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারদের মধ্যে কান্নার রোল

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ ডিসেম্বর : ধর্মনগর ৫৬ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পদ্মপুর মহাদেববাড়ি এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার দুপুরে আচমকা উচ্ছেদ অভিযান চালাল ধর্মনগর পুর পরিষদ। বিশাল পুলিশবাহিনী, মহিলা পুলিশ, ডোজার ও পুরসভার কর্মীদের উপস্থিতিতে খাস তথা সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ছ’টি পরিবারের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির দাবি, তাঁরা প্রায় ১২ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সম্প্রতি উত্তর জেলার বর্তমান জেলা শাসকের কাছে তারা গেলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে তাদের বাড়িঘর ভাঙা হবে না।

 অথচ কোনও আগাম নোটিশ বা লিখিত নির্দেশ ছাড়াই শুক্রবার হঠাৎ তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ধর্মনগর মহকুমা শাসক অফিসের দুই ডেপুটি কালেক্টর—জিনিয়াস দেববর্মা ও প্রশান্ত ভট্টাচার্য। তবে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন সত্ত্বেও তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। উচ্ছেদ অভিযানের সময় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চোখের সামনে ভেঙে পড়ে বহু পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন একাধিক মহিলা। ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা থেকে শুরু করে কোলে তিনদিনের শিশুকে নিয়ে বসে থাকা মায়েদের অসহায় ছবি সামনে আসে, যা গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ হওয়া জমিতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি শিলান্যাস ফলক রয়েছে, যেখানে ১০০ শয্যার মহিলা হোস্টেল নির্মাণের কথা উল্লেখ আছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির পুনর্বাসন কিংবা আগাম কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করেই কেন এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো—তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

এদিকে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা আবিদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জানান, “বারবার আমরা এখানে কাজ করতে এলে বসবাসকারীরা বাধা দিচ্ছিলেন। সেই কারণে ধর্মনগর মহকুমা শাসকের কাছে একটি পিটিশন দেওয়া হয়েছিল। সেই আবেদন অনুযায়ী আজ পুর পরিষদের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির অভিযোগ, তাঁরা সরকারি ঘরও পেয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, যদি জমিটি সরকারি হয়, তাহলে কীভাবে রেশন কার্ড ও আধার কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের সরকারি ঘর দেওয়া হলো? ঘর দেওয়ার সময় জমির মালিকানা যাচাই করা হয়নি কেন—সেই দায়িত্ব কার?সব মিলিয়ে নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ, পুনর্বাসনের অভাব এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগের তীর এখন সরাসরি ধর্মনগর পুর পরিষদের দিকেই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য