স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ ডিসেম্বর :সাব্রুম মহকুমার পশ্চিম জলেফা এলাকায় একটি বয়লার মুরগি উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার এই ইস্যুতে স্থানীয় এলাকাবাসী—বিশেষ করে মহিলারা এক বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করে এবং ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম জলেফা এলাকায় একটি বয়লার মুরগির উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চলছিল।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার বহু বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এর বিল পাশ হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো এক অদৃশ্য কারণে এই প্রকল্পটি মনুবাজার বিধানসভার গোয়া চাঁদ পঞ্চায়েত অধীন একটি এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে পশ্চিম জলেফার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এটি এলাকাবাসীর সঙ্গে চরম প্রতারণা। কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে পশ্চিম জলেফার মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিক্ষোভ চলাকালীন জাতীয় সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সাব্রুম থানার ওসি অপু দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিত্যানন্দ সরকার ওসিকে নির্দেশ দেন দ্রুত মহিলা পুলিশ মোতায়েন করে অবরোধ তুলে নেওয়ার, যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক। পুলিশি হস্তক্ষেপে কিছু সময় পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গুঞ্জন উঠেছে যে বিষয়টি প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শংকর রায়ের এলাকার সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকল্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, যতক্ষণ না বয়লার উৎপাদন কেন্দ্র পুনরায় পশ্চিম জলেফায় স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—উন্নয়নের নামে ঘোষিত প্রকল্পগুলি আদৌ কার স্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে?

