Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যভিআইপি সড়ক স্তব্ধ করে শহর নাকাবন্দী করলো ওয়াই টি এফ, প্রশাসনিক ভূমিকা...

ভিআইপি সড়ক স্তব্ধ করে শহর নাকাবন্দী করলো ওয়াই টি এফ, প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ ডিসেম্বর : সরকারের পাশে থেকে সরকারের মুন্ড পাত করতে উঠে পড়ে লেগেছে  শরিকদল। এই সুশাসন জামানায় প্রশাসন জনগণের জন্য আছে কিনা সেটা প্রশাসনই বলতে পারবে এবং যিনি প্রশাসন চালাচ্ছেন তিনি ই বলতে পারবেন এই প্রশাসন কার জন্য? পুলিশ প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে মেরুদণ্ডহীন হয়ে নিজেদের লাজ শরম বিকিয়ে দিচ্ছে নাকি জনগনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে? গত ২৩ অক্টোবরের ঘটনার পর এই প্রশ্নগুলি শুক্রবার আবারো নাড়িয়ে দিল শহরবাসীর মনে।

এদিন গোটা শহর নাকা বন্দি করে আগরতলা স্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ের  সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ওয়াই টি এফ -এর কর্মী সমর্থকেরা। সচেতন পথচারীরা এদিন প্রশাসনিক চরম দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অফিস টাইমে কিভাবে আগরতলা শহরের ভিআইপি রাস্তায় আন্দোলন করার অনুমতি দেয় পুলিশ আধিকারিকরা। অনভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কারণে প্রবল সংকটের সম্মুখীন হয় রোগী থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীরা। সময়মতো হাসপাতালে এবং পরীক্ষা হলেও পৌছাতে পারেনি তারা। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে পড়ে যানজটে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন অফিস আদালতে দুপুর একটা – দুইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম একপ্রকার ভাবে অচল হয়ে পড়ে লাগামহীন যানজটের কারণে। কারণ সরকারি কর্মচারীরাও সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারেনি। যাইহোক কিছুদিন পর পর শরিক দলের শাখা সংগঠনের এ ধরনের আন্দোলন ঘিরে মানুষ রীতিমতো তিতি বিরক্ত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো মানুষ‌ এবং যেকোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। এর জন্য সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলে কিংবা এভাবে লাঞ্ছিত করে  আন্দোলন করার জন্য দেশের সংবিধান অনুমতি দেয় কিনা অতি বড় বুদ্ধিমত্তার ও জানা নেই।

কিন্তু বিভিন্ন সময় শহরের ভিআইপি সড়ক, বিশেষ করে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকায় এভাবে জঙ্গি আন্দোলন চলছে। যার কারনে মানুষকে অভয়নগর, ইন্দ্রনগর, জি বি বাজার দিয়ে ৭-৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হয়। অপরদিকে দুর্গা চৌমুহনি থেকে বড়জলা রোডে এদিন যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অথচ এই ভিআইপি রোড দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দর, জিবি হাসপাতাল, মহাকরণ, বিধানসভা সহ প্রজ্ঞা ভবন স্থিত বিভিন্ন দপ্তরের সদর কার্যালয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সুশাসন জামানায় প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের যে কোনো সময়ের দাম নেই সেটা সাম্প্রতিককালের কয়েকটি ঘটনা ধারাবাহিকভাবে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে । হাইপ্রোফাইল সিকিউরিটি নিয়ে এবং লাল বাতি জ্বালিয়ে যারা শহরে প্রতিদিন এদিক-ওদিক ছুটছে তাদের এ ধরনের যানজটের সমস্যায় পড়তে হয় না। তারা কোন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় এক কিলোমিটার আগে থেকেই লালবাতির আওয়াজ শুনে সতর্ক থাকে ট্রাফিক প্রশাসন। তাই আগে স্যার বাবুদের যাওয়ার জন্য রাস্তা পরিষ্কার করেন ট্রাফিক কর্মীরা। অথচ কোনো এক রাজনৈতিক দলের জন্য গোটা শহর যখন নাকাবন্দি হয় তখন ট্রমা সেন্টারে চলে যায় অপদার্থ প্রশাসন। বেকার যুবক-যুবতীরা যখন চাকুরীর জন্য রাস্তায় জড়ো হয় তখন তাদের পুলিশ এসে আটক করে নিয়ে যায় থানায়। অথচ শরিক দলের ঔদ্ধত্য পনার জন্য কোনো আইন কানুন নেই। সেটাই বারবার প্রমাণ করছে গেরুয়া জোট সরকারের সুশাসনের পুলিশ প্রশাসন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য