Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যশান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজেপি ১০ ভাগের দুই ভাগ আসনেও জিততে...

শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজেপি ১০ ভাগের দুই ভাগ আসনেও জিততে পারবে না : জিতেন্দ্র চৌধুরী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ ডিসেম্বর :  পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার আগরতলা টাউন হল প্রাঙ্গনে সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির উদ্যোগে ২১ তম রাজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির সর্বভারতীয় নেত্রী মরিয়াল দেওয়াল, প্রাক্তন সংসদ ঝর্ণা দাস বৈদ্য, সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির নেত্রী রমা দাস, কৃষ্ণা রক্ষিত সহ অন্যান্যরা। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে টাউন হল প্রাঙ্গনে দলীয় পতাকা উত্তোলন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বক্তব্য রেখে বলেন, সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি রাজধানীর ওরিয়েন্ট চৌমুহনী এলাকায় সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির পক্ষ থেকে আজকের কর্মসূচি জন্য গত দু মাস আগে থেকেই পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। আর যখন দিন ঘনিয়ে আসে তখন শাসক দলের নির্দেশে এবং জনবিরোধী ও নারী বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার নির্দেশে ষড়যন্ত্র করে প্রচার করেছে একই দিনে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে নারী মোর্চার যোগদান সমাবেশ হবে। তারপর দেখা গেল গত সাত এবং আট ডিসেম্বর তারা রবীন্দ্র শত বার্ষিকী ভবনের সামনে জনজাতি মোর্চার পক্ষ থেকে মঞ্চ করে তোলে দাবি করে ১০ ডিসেম্বর যোগদান শিবির অনুষ্ঠিত হবে। পরে আবার দেখা গেল সেদিন যোগদান শিবির হয়নি।

১৩ ডিসেম্বর আজকে নারী সমিতির কর্মসূচির দিন একই সময়তে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে তারা সেই সমাবেশ করে চলেছে। এর দ্বারা বুঝা যায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারের মাতৃশক্তির প্রতি বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা ও শ্রদ্ধা নেই। এর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে নেশা সামগ্রী পাচার হচ্ছে। বিগত দিনের গাঁজার পুটলি, এসকফ সিরাপের কয়েকটা শিশি পাচার হতো। তখন পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন। কিন্তু বর্তমানে নেশা সামগ্রী পাচার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। রেলের ওয়াগন ভর্তি করে, মালবাহী গাড়ি ভর্তি করে গাঁজা, এসকফ সিরাপ সহ বিভিন্ন নেশা দ্রব্য পাচার হচ্ছে।

কিন্তু এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নেশা সমাজের সর্বনাশ, প্রগতির সর্বনাশ, অর্থনৈতিক সর্বনাশ। আর এত নির্লজ্জ, বেহায়া এই সরকার পুলিশের একটা অংশ- যে নেশা দ্রব্য সাথে ছবি তুলে প্রচার করে এত কোটি টাকার নেশা সামগ্রী আটক হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগ জনক বিষয় হলো এখন শুধু বখাটে যুবকরা নেশাদ্রব্য পাচারের সঙ্গে জড়িত নয়, নিরীহ মা-বোনেরা পর্যন্ত নেশা পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এই খামটি দেশের সরকারের এবং রাজ্যের সরকারের। কারণ রাজ্যে এবং দেশে কর্মসংস্থান নেই, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কোন শৃঙ্খলা নেই এবং আইনের শাসন নেই। আর নিরীহ যুবক ও মা বোনদের নেশা বাণিজ্যের জন্য পেছন থেকে মদত দিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। আরো উদ্বেগ জনক বিষয় হলো বর্তমান পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে দেখা যাচ্ছে যদি ১০ জন নেশা পাচারকারী ধরা পড়ে তাহলে এরমধ্যে নয়জনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, সুনীল দেওধর ও সংসদ রাজীব ভট্টাচার্য সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ছবি। তাই বর্তমানে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে মন্ত্রিসভায় যেসব সদস্যরা রয়েছেন তার মধ্যে ১০ ভাগের দুই ভাগও জিততে পারবে না। এভাবেই এদিনের সম্মেলন থেকে সমালোচনার ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য