Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যসারা দেশের মতো এম বি বি বিমান বন্দরেও চরম বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ প্রকাশ...

সারা দেশের মতো এম বি বি বিমান বন্দরেও চরম বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ প্রকাশ করে হতাশ যাত্রীরা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ ডিসেম্বর : ত্রিপুরা সহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর মিলিয়ে শুক্রবার চার শতাধিক বিমান বাতিল করেছে ইন্ডিগো। সকাল থেকেই আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দরে ছিল ইন্ডিগো বিমান যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমান যাত্রীদের চরম অসন্তুষ্ট লক্ষ্য করা গেছে বিমানবন্দর চত্বরে। শত শত যাত্রীদের কাছ থেকে জানা যায় এমবিবি বিমানবন্দরে এসে দেখা গেল তাদের টার্মিনালে ভেতর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে যদি ইন্ডিগো বিমান যাত্রী হয়ে থাকে তাহলে তারা ভেতরে যেতে পারবে না। তাদের বিমান বাতিল হয়েছে।

এছাড়া আর কোন কিছুই তারা জানতে পারেনি সেদিন। পাশাপাশি তারা ব্যাগ, লাগেজ নিয়ে এসে কোন কিছুই বুঝতে পারছে না। এমনকি মোবাইল ফোনের পর্যন্ত মেসেজ করা হয়নি যে বিমান বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ জানায়, বিমানবন্দরে আসার পর কোনরকম সহযোগিতা করা হয়নি তাদের। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে সহযোগিতার জন্য কোনরকম ব্যবস্থাপনা নেই। কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে দেখতে পান বিমান বাতিল হয়েছে। দিল্লি, কোলকাতা, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর সহ বিভিন্ন জায়গার ইন্ডিগো সংস্থার বিমান বাতিল হওয়ায় যাতে দুর্ভোগ চরমে ছিল। তবে যাত্রী দুর্ভোগ কতটা এগোবে সেটা কেউ বলতে পারছে না। রাত পর্যন্ত বিমানবন্দরে অপেক্ষা করে ইন্দিগোর যাত্রীরা। তাদের মধ্যে অনেকে বলছিল তাদের নাকি ইন্দিগোর সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিমানের সময়সীমার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সকাল থেকে রাত গড়ালেও তারা যেতে পারেনি। এদিকে যতদূর খবর ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসরে নেমেছে দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা। বিমানমমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্ত্রকের আধিকারিক এবং ইন্ডিগো কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

ইন্ডিগোর তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে যে, তাদের পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক। পরিষেবার উপর ‘নেতিবাচক প্রভাব’ পড়ার জন্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শীতকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমান ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান যানজট এবং বিমানকর্মীদের কাজের সংশোধিত সময়সূচিকে দায়ী করেছে ইন্ডিগো। গত মাসে বিমানকর্মীদের সংশোধিত কাজের সময়সূচি বা ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন অনুযায়ী, একজন বিমানকর্মীর দিনে আট ঘণ্টা, সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা, মাসে ১২৫ ঘণ্টা এবং বছরে সর্বোচ্চ ১,০০০ ঘণ্টা কাজ করার কথা। তবে ইন্ডিগো সূত্রে খবর, এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকেই সংস্থার কর্মী সংখ্যায় টান পড়ছে। তার উপর যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গেলে সেই বাড়তি চাপও নিতে হচ্ছে কর্তব্যরত কর্মীদের। সে কারণেই, পাইলট এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক কেবিন ক্রু না থাকায় অনেক উড়ান বাতিল করতে হচ্ছে। কখনও আবার বদলাতে হচ্ছে উড়ানের সময়সূচি। বুধবার এক দিনে ইন্ডিগোর ২০০-রও বেশি উড়ান বাতিল হয়েছিল। যার জেরে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। শুধু তা-ই নয়, জানা গিয়েছিল, গোটা নভেম্বর মাস জুড়ে মোট ১২৩২টি উড়ান বাতিল করেছে ইন্ডিগো। বৃহস্পতিবারও তার অন্যথা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের একাংশ ইন্ডিগোর বিমানের টিকিট বাতিল করে অন্য বিমানসংস্থাগুলির শরণাপন্ন হচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে অন্য সংস্থাগুলি টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগোর পরিষেবা বিপর্যস্ত। যার জেরে ভোগান্তির শিকার লক্ষ লক্ষ বিমানযাত্রী।

এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি ওই বিমানসংস্থাকে ছাড় দিল কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। পুরনো নির্দেশিকায় উল্লিখিত কয়েকটি বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। যেমন আগের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, পাইলট বা বিমানচালকদের নেওয়া ছুটিকে সাপ্তাহিক বিশ্রামের যে নির্দিষ্ট সময়সীমা, তার অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। অর্থাৎ, পাইলটরা আগাম ছুটি নিন বা না-নিন, সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বিশ্রাম দিতেই হবে তাঁদের। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংক্রান্ত নিয়মটি শিথিল করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, পাইলটদের ছুটির সময়সীমাও ওই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। পাইলটদের রাতের কাজ বা নাইট সংক্রান্ত বিধিও শিথিল করছে ডিজিসিএ। সমস্যা মোকাবিলায় পাইলটদের সহযোগিতাও চেয়েছে তারা। তবে সারাদেশে বিভিন্ন বিমানবন্দরের মত এমবিবি বিমানবন্দরেও আটকে পড়েছে রাজ্যের এবং বহির্রাজ্যের যাত্রীরা। তারা কখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। অনিশ্চিত তাদের যাতায়াত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডিগো বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যারা দুর্ভোগের স্বীকার তাদের জন্য বিভিন্ন হোটেলে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ এমবিবি বিমানবন্দরের ইন্ডিগো যাত্রীরা সেসব কোন সুযোগ-সুবিধা পায়নি বলে দাবি। যাত্রীরা জানায় বিমানবন্দরে এসে টার্মিনাল ভবনের ভেতর তারা প্রবেশই করতে পারছে না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য