স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ নভেম্বর :রাজ্যের দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতালে পুরুষ সুপারভাইজারের হাতে শারীরিকভাবে নিগ্রহের অভিযোগ মহিলা ওয়ার্কাররা এবং অপর এক সুপারভাইজার বলে অভিযোগ। আইজিএম হাসপাতালের এই অভিযুক্ত সুপারভাইজারের নাম বিশ্বজিৎ সাহা। রবিবার অভিযুক্ত সুপারভাইজারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় ওয়ার্কাররা। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতির করিডোর বানিয়েছে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ সাহা বলে অভিযোগ তাদের।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট এক সংস্থা টেন্ডার নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্কারদের সম্মান হারিয়েছে সুপারভাইজারের কারনে। গত এক নভেম্বর থেকে হাসপাতালে মহিলার ওয়ার্কারদের কোন নিরাপত্তা নেই। শনিবার হাসপাতালে এক মহিলা সুপারভাইজারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্বজিৎ সাহার বিরুদ্ধে। তিনি একজন সুপারভাইজার হয়ে অপর সুপারভাইজার শিপ্রা দাসের সঙ্গে ঝামেলা করেন শনিবার। এদিন কাজ দিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তখন ধাক্কা দিয়ে ফেলে রক্তাক্ত করে বলে বিশ্বজিৎ বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ। যার কারণে রবিবার সকাল থেকে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় আক্রান্ত মহিলা সুপারভাইজারেরে নেতৃত্বে ওয়ার্কাররা। আক্রান্ত মহিলার সুপারভাইজার জানান, তাকে ধাক্কা দিয়েছিল বিশ্বজিৎ সাহা। অপরদিকে অন্যান্য ওয়ার্কারদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত সুপারভাইজার বিশ্বজিৎ সাহা মহিলা ওয়ারকারদের আঁচল ধরে টানাটানি করে।
শুধু তাই নয় খাওয়ার পর মহিলা ওয়ার্কারদের আঁচল দিয়ে মুখ মুছে অভিযুক্ত। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যে ফেনল, লাইজল, হারপিক, ডেটল এবং ব্লিচিং পাউডার আনা হয় সেগুলি সঠিকভাবে তাদের ব্যবহার করার জন্য দেয় না। এগুলি অভিযুক্ত বাইরের বিক্রি করে নিজের পকেট ভরছে। যার কারণে স্বল্প পরিমাণে সামগ্রী দিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এক বোতল ফেনলের সঙ্গে ১০ বোতল জল মেশানো হয়। এই বিষয়ে সুপারভাইজার বিশ্বজিৎকে বললে সে তাদের ধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেয়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় অশ্লীল কথা বলে গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। যার কারণে হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ওয়ার্কারদের। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ করতে গিয়ে রোগীর পরিজন এবং নার্সদের কাছ থেকে দু- এক কথা শুনতে হচ্ছে ওয়ার্কারদের। এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে দাবি করলেন হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্কাররা। তারা জানান হাসপাতালের মধ্যে ১৩৬ জন ওয়ার্কার রয়েছে। এর মধ্যে ১১২ জন মহিলা ওয়ার্কার। এই সুপারভাইজারের কারণে তাদের কোন নিরাপত্তা নেই বলে দাবি করেন মহিলা ওয়ার্কাররা। এদিকে পরবর্তী সময় অভিযুক্ত সুপারভাইজার বিশ্বজিৎকে ঘিরে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে মহিলা ওয়ার্কাররা। তখন অপর সুপারভাইজার শিপ্রা দাস এসে বিশ্বজিৎ সাহাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সুতরাং, ডাল মে কুচ কালা হে! বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। তবে মহিলা সুলভ কর্মীদের এহেন ভূমিকায় হাসপাতালের কাজ কর্মের উপর প্রভাব পড়ে এদিন।

