স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ নভেম্বর : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুমুলুঙে বিজেপি -র দলীয় কার্যালয় জ্বালিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কোথায় দমকল কর্মীরা এবং পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রধান শাসক দলের দলীয় কার্যালয়। অভিযোগের তীর শরিক দল তিপরা মথার দিকে। এদিকে জয় কৃষ্ণ কবরা পাড়ায় বিজেপি কর্মী শহীদ দেববর্মার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে তিপরা মথার কর্মীদের বিরুদ্ধে। দুর্বৃত্তরা সাত থেকে আটজন বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাঙচুর চালায়। প্রতিবাদ করলে মারধর করে বাড়ির লোকজনদের। বাড়ির লোকজনদের অভিযোগ, বাড়িতে শহীদ দেববর্মাকে না পেয়ে দুষ্কৃতীরা তার ঘরের সবকিছুই ভাঙচুর করে তছনছ করে দেয়। টিভি, ফ্রিজ, ইনভার্টার সহ প্রায় সব আসবাবপত্রই ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।
শহীদ দেববর্মার স্ত্রীর আরো অভিযোগ— তিনি হামলাকারীদের পায়ে ধরে থামানোর চেষ্টা করলেও তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীকারিরা। এমনকি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গৃহিণীর সরাসরি অভিযোগ— এই হামলার পেছনে রয়েছে তিপ্রা মথার কর্মীরা।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় রাধাপুর থানার পুলিশ। তারপর জিরানিয়া মহকুমার এস.ডি.পি.ও, পশ্চিম জেলার অ্যাডিশনাল এসপি হিমাদ্রি দাস সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এলাকায় সৃষ্টি হয়ে আছে প্রবল উত্তেজনা। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক। এদিকে খুমুলুঙে বোমা বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বুধবার গভীর রাতে প্রায় একটা থেকে দেড়টার নাগাদ। দুখিয়া কোবরা এলাকার একটি দোকানের সামনে কিছু দুষ্কৃতী বোমা ফাটায়।
ঘটনা জানার পর রাধাপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ব্যবসায়ি জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এলাকায় তিপরা মথা ও বিজেপি-র মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে, তাই এই দুই দলের কোনও পক্ষ থেকেও দুষ্কৃতিকারীরা ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তার ধারণা। একই মত প্রকাশ করেছেন একাধিক এলাকাবাসীও। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার এমডিসি গণেশ দেববর্মা সরাসরি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি আরও দাবি করেন, “মানুষের বাড়িঘর থেকে ছাগল–শুকর চুরি করে খায় বিজেপি দল”। ঘটনাস্থলে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন মান্দাই বিধানসভা এলাকার বিধায়িকা স্বপ্না দেববর্মা। বর্তমানে খুমুলুঙের পরিস্থিতি থমথমে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে দুই দলের নেতৃত্ব ক্যামেরার সামনে যতটাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ভাব ভঙ্গিমা দেখাক না কেন পাহাড় থেকে একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে শুরু হয়েছে সন্ত্রাসের গুটি চাল।

