স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ নভেম্বর :পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আগরতলা শহরে ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করল ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় কমিটি। এর মধ্যে দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন প্রশাসনিক নির্দেশকে কলাপাতা বানিয়ে দিয়েছে। জানা যায়, ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে আগরতলা শহরে মিছিল ও গণঅবস্থানের অনুমতি চাইলে প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় প্যারাডাইস চৌমুহনীতে বিক্ষোভ সামিল হয় রবিবার।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা মহুয়া রায় বক্তব্য রেখে বলেন, গত জুলাই মাসে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়ে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। সেই চিঠি পেয়েও এখন পর্যন্ত সংগঠনের নেতৃত্বকে ডাকেনি কেউ কথা বলার জন্য। তাই কর্মসূচি হাতে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় কমিটি। গত ১লা নভেম্বর রাজ্য আরক্ষা দপ্তরকে চিঠি প্রদান করে কর্মসূচি সংগঠিত করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আরক্ষা দপ্তর থেকে তাদের জানিয়ে দেয় পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ না থাকায় তাদেরকে অনুমতি দেওয়া যাবে না। একইভাবে গত সেপ্টেম্বর মাসেও কর্মসূচি করতে দেয়নি পুলিশ প্রশাসন।
তাই রবিবার কর্মসূচি সাফল্যমন্ডিত করতে প্রশাসনের বাধা এড়িয়ে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করছে বলে জানান। দাবিগুলি উল্লেখ করে বলেন, পুরনো পেনশন প্রথা ফিরিয়ে দেওয়া, সমস্ত বকেয়া ডিএ সরকারের মিটিয়ে দেওয়া, অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করা, অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ করা। সংগঠনের নেত্রী মহুয়া রায় বলেন, মানুষের মনের আগুন কর্মসূচি বানচাল করে রুখতে পারবে না সরকার।
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন আগামী দিন কর্মসূচির জন্য দিনক্ষণ ধার্য করে অনুমতি চাওয়া হবে না, এত পরিমাণ লোক নিয়ে রাস্তায় নামবে যে উড়ে যাবে সরকার। পুলিশের নির্দেশ ডিঙ্গিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আগরতলা শহরে কর্মসূচি সংঘটিত করা মানে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে মাইলেজ দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে কোন ধরনের ত্রুটি কিংবা আভ্যন্তরীণ বিষয় থাকলে সেটা প্রশাসনের রুখে দিতে দিতে বাধ্য। তাই বলে সরকারি কর্মচারী সংগঠন এভাবে রাস্তায় নামবে সেটা সাধারণ মানুষের জন্য একপ্রকার ভাবে সুশাসন জামানায় হাস্যকর ঘটনা।

