Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যশুনশান কমলপুর শান্তিরবাজার, নিঃস্ব হয়ে গেছে ব্যবসায়ীরা, কার পাপের ভোজা তাদের ঘাড়ে,...

শুনশান কমলপুর শান্তিরবাজার, নিঃস্ব হয়ে গেছে ব্যবসায়ীরা, কার পাপের ভোজা তাদের ঘাড়ে, প্রশ্ন আমজনতার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ অক্টোবর : পাঁচদিন ধরে কার পাপের ভোজা বইছে কমলপুরবাসী? ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বাজারে বসে চোখের জল ফেলছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এখনো শুনশান কমলপুর স্থিত শান্তিরবাজার।জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা। বন্ধ বাজার হাট ও যান চলাচল। নিঃস্ব হয়ে গেছে বাজারের ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর কমলপুর মহকুমার শান্তিরবাজারে সিভিল সার্ভিসের সোসাইটির ডাকা বনধের হামলায় আহত হয়েছে ১০ জন। তাদের রাজ্য ও বহির রাজ্যে চিকিৎসা চলছে।

 হামলার ঘটনা ৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এখনো জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাজারহাট বন্ধ। পুলিশ প্রশাসন দিকেই অভিযোগ উঠেছে। তবছ দিনেরবেলা কমলপুর-আমবাসা, আমবাসা – কমলপুর কিছু ছোট গাড়ি গুলি চলাচল করছে আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে। এক ব্যবসায়ী জানান তার দোকানের ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার সামগ্রী ছিল। সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এখন ঘরে চাল, ডাল পর্যন্ত নেই। ২৩ অক্টোবর সারাদিন দোকান বন্ধের পর সন্ধ্যা বেলায় দোকান খুলেছিলেন। অথচ সন্ধ্যার সময় দুর্বৃত্ত বাহিনীরা বাজারে এসে সন্ত্রাস চালায়। পিকেটিং থেকে দোকানপাট ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ সমস্ত কিছুই চলে। তাদের সন্ত্রাসে নিঃস্ব হয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় সমস্ত ঘটনার পুলিশের চোখের সামনে ঘটলো পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছিল দুর্বৃত্ত বাহিনীর তান্ডব। অপর এক ব্যবসায়ী সরাসরি আঙ্গুল তুলেছে তিপরা মথার দিকে। তারা সেদিন এই ঘটনা সংঘটিত করেছে বলে ব্যবসায়ীর অভিযোগ।

তবে ব্যবসায়ীদের কথায় স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনার পেছনে পুলিশ প্রশাসনের অপদার্থ তার কারণে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যতদূর খবর সেদিন ঘটনার আগে একদল দুষ্কৃতিকারী পিকেটিং থেকে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট কেন খুলেছে তা জানতে চায়। এ বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঝামেলা করেছিল তারা। পরবর্তী সময়ে তারা গাড়ি দিয়ে এসে বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন প্রশাসন আগে থেকেই জানতো বনধ হবে। সে অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেন রাখা হয়নি? শান্তিরবাজার থেকে ঢিল ছোড়া দূরেই ছিল আসাম রাইফেলসের ক্যাম্প এবং টিএসআর -এর ক্যাম্প। সকাল থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী দিয়ে পিকেটারদের ব্যারিকেড দিয়ে রাখতে পারতো। এবং কোনরকম উচ্ছৃঙ্খলতার আবাস পেলে লাঠি চার্জের বন্দোবস্ত করে রাখতে পারতো। কিন্তু প্রশাসন সেটা এক প্রকার ভাবে ভুলে গেছে, নাকি সুশাসন জামানায় অ্যাডহক পদোন্নতি হওয়া অফিসারদের অভিজ্ঞতার অভাব, সেটা সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ যারা এই ঘটনার সংঘটিত করেছে তাদের এ ধরনের কার্যকলাপ নতুন নয়, অতীত অভ্যাস বলে জানে সাধারণ নাগরিকভাবে। যাইহোক কেউ কেউ মনে করছে যে প্রশাসন সেদিন বনধের জন্য পিকেটারদের সহযোগিতা করেছে, সেই প্রশাসনকে পর্যন্ত রেহাই দেয়নি তারা। যা কমলপুরে ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার, বিডিও থেকে শুরু করে অনেকেই। অথচ বনধের কয়েকদিন আগে থেকেই রাজ্য সরকার এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসন দাবি করেছিল বনধের বিরোধিতা করে তারা। কিন্তু বনধের দিন গোটা দৃশ্য ছিল আলাদা। মিলি ঝুলি বনধ হয়েছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না সাধারণ মানুষের কাছে। উত্তেজিত যুবকরা রাজধানীর শহরের বুকে চিকিৎসকের বাইকের চাবি পুলিশ আধিকারিক ধ্রুব নাথ, দেবপ্রসাদ রায় ও সুব্রত দেবনাথের সামনেই ছিনিয়ে নেয়। প্রশ্ন এত সাহস আসে কোথা থেকে? প্রশাসন যদি সাধারণ জনগণের জন্য সেদিন রাস্তায় থাকতো তাহলে এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের সাথে সংগঠিত হতো না। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না – মানুষ সব জানে, মানুষ সব বুঝে! কারণ ত্রিপাক্ষিক চুক্তি কেন্দ্র সরকারের সাথে হয়েছে। সেই চুক্তি করার জন্য রাজ্যের ৪০ থেকে ৪২ লক্ষ জনগণ দাবি করেননি। এই দাবি করেছে নির্দিষ্ট জনজাতির সংগঠনের তথা সরকারের শরিক দলের প্রধান মুখিয়ারা।‌ গত ১৮ মাসের সেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি বলে পাপের বোঝা বইতে হলো শান্তির বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের। অপ্রকাশিতভাবে এর দায়ভার যদি সরকার বা কেউ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের সাথে বেইমানি হবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য