স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ অক্টোবর : শনিবার গাড়ি দিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে ধর্মনগর যাওয়ার সময় আমবাসায় পুলিশের বাধার মুখে পড়লেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। তারপর গাড়ি থেকে নেমে প্রশাসনিক আধিকারিকদের এক হাত নিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম বনিক, মহকুমা শাসক রিংকু রিয়াং এবং টিএসআরের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট বিনয়ভূষণ দেববর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক কমলপুর স্থিত শান্তির বাজারে যাবেন বলে খবর ছিল পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
সে অনুযায়ী প্রতিমা ভৌমিকের রাস্তা আটকাতে আমবাসা নাইলাহাবাড়ি এবং কমলপুর আমবাসা ট্রাইজংশনে বেরিকেড দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। নাইলাহাবাড়ি যাওয়ার পরেই প্রতিমা ভৌমিকের রাস্তা আটকাতে ব্যারিকেড দেওয়া ছিল। যা দেখে মেজাজ হারালেন প্রতিমা ভৌমিক। সরাসরি গাড়ি থেকে পুলিশ আধিকারিকদের জিজ্ঞাসা করলেন ব্যারিকেড কেন? পুলিশ আধিকারিক বলেন ম্যাডাম শান্তির বাজারে যাওয়া যাবে না। তখন পুলিশ আধিকারিককে প্রতিমা ভৌমিক জিজ্ঞাসা করলেন, ২৩ অক্টোবর শান্তির বাজারে যখন নির্দিষ্ট অংশের মানুষকে মারধর করা হচ্ছিল তখন আপনাদের ব্যারিকেড কই ছিল? আগে থেকে জানতেন না বনধ? কেন আন্দোলনকারীদের বেরিকেড দিয়ে রাখেননি? তখন পুলিশ আধিকারিক প্রতিমা ভৌমিককে বলেন ম্যাডাম উপর থেকে নির্দেশ রয়েছে আপনি শান্তির বাজার যেতে পারবেন না। উপর থেকে নির্দেশ রয়েছে। এই কথা শুনে প্রতিমা ভৌমিক পাল্টা জিজ্ঞাসা করলেন, কেন সেদিন ঘটনার সময় উপর থেকে কোন নির্দেশ আসেনি? কোথায় ছিলেন আপনারা? আমি যদি সরকার চালাতাম তাহলে এমন হতো না। মথাকে দেখলেই ভাই আপনারা ভয় পান। আপনারা সরকারের অংশ নয়, সরকার আপনাদের অংশ হয়ে গেছে। সরকারটাকে শেষ করে ফেলেছেন। আরো কিভাবে শেষ করা যায় সেটার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছেন আপনারা। প্রতিমা ভৌমিক আরো বলেন গত কয়েক বছর ধরে শুধু বিজেপির ছেলেরা মার খাচ্ছে। অন্য কোন রাজনৈতিক দলের ছেলেরা মার খাচ্ছে না। আর আপনারা আসেন এখন আইন-শৃঙ্খলা শেখাতেন?
যারা মানুষকে মারধর করে তাদের গিয়ে আপনারা আইনশৃঙ্খলা শেখান। পুলিশকে এক হাত নিয়ে তিনি আরো বলেন, যারা সেদিন বনধ ডেকেছিল তারা সব জায়গাতেই অসভ্যতা করে। তারা জনজাতিদের উপকারের কথা বলে লোকসান করছে। তারপর পুলিশ বেরিকেট না সরানোর কারণে তিনি গাড়ি চালককে বলেন, ব্যারিকেড এর উপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যান। তারা গুলি করুক। নাহলে তারা গ্রেপ্তার করুক। এক অদ্ভুত সরকার চালাচ্ছে বলেন। তারপর পুলিশ ব্যারিকেড খুলে দিলে প্রতিমা ভৌমিক রওনা হন ধর্মনগর এর উদ্দেশ্যে। কিন্তু কমলপুর আমবাসা টাইজাংশনে এসে আবারো ব্যারিকেডের মুখোমুখি হন তিনি। তখন গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ আধিকারিককে বলেন আপনারদের কাজের মধ্যে উৎসাহ নেই। আপনারা অতি উৎসাহী হয়ে নাটক মঞ্চস্থ তৈরি করে রেখেছেন। আপনাদের ইজ্জত নেই। পুলিশ আধিকারিক প্রতিমা ভৌমিককে প্রশ্ন করেন আপনার এসকট লাগবে কিনা?
তখন প্রতিমা ভৌমিক বলেন, আপনারা জনগণের নিরাপত্তা দিতে পারেন না, আর আমি এসকর্ট নিয়ে কি করব? পুলিশের ইজ্জত নেই বলে গাড়িতে উঠে গেলেন প্রতিমা ভৌমিক। তারপর পুলিশ আধিকারিক প্রতিমা ভৌমিককের গাড়ির জানালার কাছে গিয়ে মহকুমা শাসক রিংকু রিয়াং -এর সাথে পরিচয় করান। তখন প্রতিমা ভৌমিক বলেন, মহাকুমার শাসক দুনিয়ার অফিসারদের ফোন করে মার খাইয়েছেন। তারপর পুলিশের ইজ্জত নেই বললেন। ধর্মনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে বলেন, অদ্ভুত সরকার! অদ্ভুত চলছে!

