Tuesday, February 3, 2026
বাড়িরাজ্যগ্রাম শহরে দ্বিখন্ডিত দুর্গাপূজার আনন্দ, সমালোচনায় ব্যস্ত শাসক বিরোধী, ম্লান দুর্গাপূজার আনন্দ

গ্রাম শহরে দ্বিখন্ডিত দুর্গাপূজার আনন্দ, সমালোচনায় ব্যস্ত শাসক বিরোধী, ম্লান দুর্গাপূজার আনন্দ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে যখন অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রির বিষয় সামনে উঠে আসছে তখন প্রদেশ বিজেপি -র পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে জাতি জনজাতি সকল অংশের মানুষকে দূর্গা পূজার অভিনন্দন জানালেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যের একজন দায়িত্ববান সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় যেখানে মাতৃ পক্ষের সূচনা হয়েছে সেখানে এক জনজাতি মহিলা ও পুরুষ তার তিন মাসের শিশু কন্যার মুখে দুধ তুলে দিতে না পেরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতে হয়েছিল।

 শেষ পর্যন্ত সন্তান বিক্রি করে দিশেহারা হয়ে পড়ে জনজাতি পরিবারটি সংবাদ মাধ্যমের দারস্থ হয়ে সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে কাতর আবেদন জানায়। শেষ পর্যন্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর যখন সরকার এবং প্রশাসনের মুখ পুড়েছে তখন নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। খবর প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনজাতি পরিবার ফিরে পেয়েছে তার সন্তান। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসক দলের অভিনন্দন বার্তা কতটা রাজ্যবাসী হজম হবে সেটাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে এদিন আত্মনির্ভরের ধ্যান ধারণা তুলে ধরেছেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি।

কিন্তু অভাব অনটন নিয়ে প্রধান শাসক দলের কতটা ধ্যান-ধারণা রয়েছে সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে পূজা মরশুমে। এদিকে রাজ্যের অন্যতম বিরোধী দল কংগ্রেস অতীতের মতোই ঘরে বসে গল্পের গরু গাছে ছড়াচ্ছেন। দুর্গাপূজার দুদিন আগে সন্তান বিক্রি হয়ে যাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে এখন পর্যন্ত মাঠে ময়দানে দেখা যায়নি। অথচ রাহুল গান্ধীকে নিয়ে তারা অত্যন্ত সক্রিয় থাকেন। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের সন্তান বিক্রির প্রসঙ্গের কথা মনে হয় রবিবার। তিনি বলেন, প্রতিদিনই খবরের কাগজে এবং সামাজিক মাধ্যমে দেখতে পান অভাবের তাড়নায় মা-বাবা সন্তান বিক্রি করেছে। এগুলি অত্যন্ত হৃদয় বেদনাদায়ক। এরমধ্যে শেষ ঘটনাটি হলো শিলাছড়ি শুকনাছড়া এলাকায় ঘটেছে। সন্তানের জন্য দুধ কিনতে না পেরে বিক্রি করে দিয়েছিল মা-বাবা। কিন্তু কেন শিশুকে মা-বাবার বিক্রি করতে হলো সেটা নিয়ে প্রশাসনের কোন হেলদোল নেই। অসহায় মানুষদের কথা শোনার কেউ নেই। তারা শুধু পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন এবং ফ্লাক্সের ছয়লাপ নিয়ে আছে। আর উন্নয়নের ফিরিস্তি হিসেবে শাড়ি বন্টন চলছে বিভিন্ন জায়গায়।

যাই হোক এই সন্তান বিক্রির ঘটনা গুলি দিয়ে প্রশ্ন ওঠে কোথায় সরকার, কোথায় প্রশাসন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা কোথায়? মানুষের অশ্রু জল মোছার জন্য কারোর সময় নেই। এটাই উন্নয়নের ত্রিপুরা এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকার। এই নিকাম্মা ও অপদার্থ সরকারকে ধিক্কার জানানো হচ্ছে। এর চাইতে জলজ্যান্ত প্রমাণ আর কিছু নেই। তাই সরকার এবং প্রশাসনের লজ্জা হওয়া উচিত বলে জানান তিনি। তবে প্রশ্ন হল রাজনীতির জন্য রাজনীতি ঠিক আছে, কিন্তু জনগণের সাথে শাসক বিরোধী আর কত রাজনীতি করবে? ঘরে বসে শাসক দল দাবি করছে মানুষের উন্নয়নের ঢেউ তুলেছে, আবার বিরোধীদল দাবি করছে উন্নয়ন নেই। আসল কথা হল রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের হাল হাকিকাত কি সেটা দেখার জন্য একবারও মাঠে ময়দানে নামতে চাইছে না শাসক বিরোধী কোন রাজনৈতিক দল। এভাবে চলতে থাকায় মানুষের মনে আজ শারদ উৎসব দোলা দেয় না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য