Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যপূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ

পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর : প্রতিবছরের মতো এ বছরও মহালয়ার সকালে তর্পন করা হয় আগরতলা শহরের বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণের পুকুরে। তর্পনের প্রধান উদ্দেশ্য তৃপ্তি দান এবং তৃপ্তি লাভ। উত্তর পুরুষের তর্পনে প্রয়াত পূর্বপুরুষের আত্মা তৃপ্ত হলে ধন, স্বাস্থ্য, আয়ু বৃদ্ধি হয়। বিশ্বাস মেলে শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধিও। জানা যায়, ভাদ্র পূর্ণিমার পরবর্তী প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা তিথি পর্যন্ত পিতৃপক্ষ।

অমাবস্যা পিতৃপক্ষের শেষ। মহাভারতে কর্ণের আত্মা স্বর্গে অবস্থান কালে খাদ্যদ্রব্য হিসাবে তাকে স্বর্ণ এবং রত্ন দেওয়া হয়। কর্ণ-এর কারণ জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, দাতা কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণ এবং রত্ন দান করে গিয়েছেন। পিতৃপুরুষের উদ্দেশে খাদ্য বা জল দান করেন নি। এই কারণে তাঁকে স্বর্গে স্বর্ণ এবং রত্ন খাদ্য হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। কর্ণ বলেন, পিতা এবং পিতৃ পুরুষের সম্বন্ধে তিনি অবহিত ছিলেন না।

যুদ্ধের আগের রাতে তাঁর মা তাঁকে পিতা এবং পিতৃ পুরুষের সম্বন্ধে অবহিত করেন। পিতৃ পুরুষের উদ্দেশে খাদ্যদ্রব্য এবং জল প্রদান না করা কর্ণের অনিচ্ছাকৃত ভুল। কর্ণকে ভুল সংশোধন করার জন্য ইন্দ্র ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে অন্ন এবং জল দানের অনুমতি দেন। এই ১৬ দিন পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তিথিতেই তর্পণ করা উচিত। সম্ভব না হলে পিতৃপক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ অমাবস্যায় তর্পণ করা উচিত। পূর্বপুরুষ, ঋষি, পিতামাতা এবং গুরুর উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য ও জল নিবেদন করে তাঁদের তুষ্ট করাই হল তর্পণ। পুরাণে বলা হয়েছে পিতৃপুরুষ তুষ্ট হলে, তাঁদের আশীর্বাদে দীর্ঘায়ু, ধন সম্পত্তি, জ্ঞান, শান্তি এবং মৃত্যুর পর স্বর্গ ও মোক্ষ লাভ হয়। রবিবার রাজধানীর লক্ষ্মীনারায়ন বাড়ীর ঘাটে এই তর্পণ করা হয়। সকাল থেকেই ভীড় জমান অনেকেই।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য