স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর : অমরপুর সিনিয়র বেসিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তিনজন ছাত্রছাত্রীর জন্য শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন তিনজন। যার মধ্যে দুজনই প্রধান শিক্ষক। শুনতে অবাক লাগলেও শিক্ষা ব্যবস্থার অদ্ভুত চিত্রটি লক্ষ্য করা যায় অমরপুর বিদ্যালয়ে পরিদর্শকের অধীন উত্তর চেলাগাঙ এডিসি ভিলেজের পদহাম পাড়ায়। চেলাগাঙ এডিসি ভিলেজের পদহাম পাড়ায় পদহাম তৈমতি উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয় নামে পরিচিত।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে কাগজে পত্রে তিন জন ছাত্র ছাত্রীর নাম নথিভুক্ত থাকলেও তারা মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। তবে ছাত্র-ছাত্রী না থাকলেও বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠনে যাতে কোন ঘাটতি না ঘটে তার জন্য বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর পদহাম তৈমতি উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে তিন জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করে রেখেছেন। ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা আসছেন স্টাফ রুমে বসে গল্প গুজব করছেন। মাঝে মধ্যে মিড ডে মিলের রাঁধুনিকে ডেকে এনে খাওয়া দাওয়া করছেন। তারপর বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে বর্তমানে বিদ্যালয়ে তিন জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও তাদেরকে বিদ্যালয় মুখী করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
তবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, একই পরিবারের ওই তিনজন ছাত্রছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আনার জন্য তারা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শিক্ষক তাদের বাড়িতে গিয়ে ডেকে আনলে কয়েকদিন বিদ্যালয়ে আসে, তারপর আবার তাদের দেখা পাওয়া যায় না। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটি থেকেও এক প্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। যার ফলে ছাত্র-ছাত্রীহীন পদহাম তৈমতি উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়টি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এতে ষ্পষ্ট গ্রাম পাহাড়ের সরকারি বিদ্যালয়গুলির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে। যার কারণে পড়াশোনা নাম নেই। এমন শিক্ষা বিপ্লব সকলের কাছেই তাজ্জব করার মতো।

