স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর : আগরতলা পুর নিগমে উধাও ১৬ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। গত বৃহস্পতিবার আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে পশ্চিম আগরতলা থানায় মামলা হয়। পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ তদন্তে নেমে রাজধানীর কামান চৌমুহনী স্থিত একটি ব্যাংকে যায়। পুলিশ ব্যাংকের কিছু কর্মী এবং আগরতলা পৌর নিগমের কোষাধ্যক্ষ সহ কয়েকজনকে তদন্তের আওতায় এনেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কাউকে জলে তুলে নিয়ে পুলিশ।
খুব শীঘ্রই পুলিশ জালে তুলতে শুরু করবে। শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার জানান, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প, রাজ্য প্রকল্প সহ বিভিন্ন অর্থ সুরক্ষার জন্য ব্যাংকের মধ্যে রাখা হয়। কামান চৌমুহনী স্থিত ব্যাংকের মধ্যেও পৌরনিগম টাকা রেখেছিল। পরে গত আগস্ট মাসের মান্থলি রিপোর্ট যখন বের হয় তখন দেখা গেছে হায়দ্রাবাদের সংস্থা জালিয়াতি করে নিগমের একাউন্ট থেকে চার পর্যায়ে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এবং যে চেকগুলি তারা জালিয়াতি করেছে সেই চেকগুলির আসল কপি পুর নিগম কর্তৃপক্ষের কাছে আছে। ধারণা করা হচ্ছে এর সাথে ব্যাংকের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। তারপর পুর নিগমের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৬ কোটি টাকা জালিয়াতি করা হয়েছে সে টাকা যাতে অবিলম্বে ব্যাংক ফিরিয়ে দেয় নিগম কর্তৃপক্ষকে। কারণ জালিয়াতির বিষয়ে পুরোপুরি দায়বদ্ধ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। তবে এই জালিয়াতির সাথে একটি বড় চক্র জড়িত আছে বলে ধারণা সকলের।
এই জালিয়াতি গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু করেছে প্রতারকরা। পুলিশ চেক গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে হায়দ্রাবাদের সেসব সংস্থার সাথে যোগাযোগ শুরু করছে। সেসব সংস্কার কারা এই জালিয়াতি করেছে সেটা এখন মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সকলের কাছে। আরো জানা যায় চেক ভাঙ্গার পর কোনরকম মেসেজ নিগম কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি। কিন্তু অনেকে মনে করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জড়িত না থাকলে মেসেজ অপশন বন্ধ করে কোনভাবেই জালিয়াতি করতে পারবে না প্রতারক সংস্থা। সেদিন মেয়র সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে পুর নিগমের কেউ জড়িত আছে কিনা সেটা সরাসরি উড়িয়ে দিতে পারেনি। মেয়র বলেন আপাতত দৃষ্টিতে ধারণা করা হচ্ছে ব্যাংকের লোক সাথে জড়িত। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষ। এদিকে শনিবার বিকেলে আগরতলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম। পরে আগরতলা পুর নিগমের কার্যালয়ের সামনে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। প্রাক্তন সাংসদ শংকর প্রসাদ দত্ত জানান, জালিয়াতি হওয়া টাকা জনগণের

জনগণের টাকা এভাবে লুট হয়ে যাওয়া মারাত্মকভাবে দুর্নীতি। এছাড়াও নিগমের যে সমস্ত কাজ আগরতলা শহরে হচ্ছে সবগুলোই পেছনে দুর্নীতি রয়েছে। এরই প্রতিবাদে আগরতলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করা হয়। পাশাপাশি দাবি জানানো হয় যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের যাতে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়। জালিয়াতি করার জনগণের অর্থ যাতে অবিলম্বে নিগম কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নাহলে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করতে বাধ্য হবে সিপিআইএম। এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিআইএম নেতা অমল চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে ধর্মনগর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত দুর্নীতি চলছে। কোটি টাকার কাজ হলে সাংবাদিক সম্মেলন করে মন্ত্রী দাবী করছেন হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে। ইতিমধ্যে আগরতলা শহরের উন্নয়নের টাকা কিভাবে জালিয়াতি হয়েছে সেটা সামনে এসেছে। ১৬ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করেছে দুর্নীতিবাজরা। প্রধান বিরোধী দল চায় জনগণের পয়সা যাতে কিভাবে দুর্নীতি হয়েছে সেটা সামনে আসে। দুর্নীতি হওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়। না হলে আগামী দিন বিধানসভার মধ্যে আওয়াজ তোলা হবে। একই সাথে জনগণকে নিয়ে অলিগলি থেকে আওয়াজ তুলবে সিপিআইএম। তিনি আরো বলেন, গোটা রাজ্য জুড়ে একটা নৈরাজ্য এবং লুটের রাজত্ব চলছে। জনগণের টাকা লুট করে বিশাল দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বিজেপি নেতারা। তিনি আগরতলা স্মার্ট সিটির সমালোচনা করে বলেন বিজেপি পরিচালিত আগরতলা শহর স্মার্ট করতে না পারলেও নিগমের কর্পোরেটররা স্মার্ট হয়েছেন ঠিকই।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো বামফ্রন্ট সরকারের সময় যে সমস্ত দামি গাড়ি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কোন সাংসদ ব্যবহার করতে পারেনি সে সমস্ত গাড়ি বর্তমানে আগরতলা পৌর নিগমের কর্পোরেটররা এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বিধায়করা ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয় তারা লন্ডন থেকে চশমা ক্রয় করে এনে পড়েন। গোটা রাজ্য দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। এবং এ দুর্নীতির জন্য বিজেপি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে মন্ডল মাফিয়া, বিধায়ক, কর্পোরেটর সহ অন্যান্য নেতৃত্বকে। এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করেন অমল চক্রবর্তী।

