Friday, August 7, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ জাপানে ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, জারি সতর্কতা

জাপানে ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, জারি সতর্কতা

জাপানে ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, জারি সতর্কতা

টোকিও, ২১ এপ্রিল (হি.স.): জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দফতর। ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর আগেই সোমবার সন্ধ্যায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, যার প্রভাব রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ইওয়াতে প্রদেশের উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি। কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কেন্দ্র থেকে বহু দূরে থাকা টোকিওর উঁচু ভবনও দুলে ওঠে। ভূমিকম্পের প্রায় ৪০ মিনিট পর ইওয়াতে প্রিফেকচারের বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন বিশেষত পরবর্তী ২-৩ দিনের মধ্যে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাপানের প্রধান ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জানা গেছে , ইওয়াতে উপকূলের বিভিন্ন বন্দরে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ছবি দেখা যায়নি। তবে কিছু বুলেট ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল এবং প্রায় ১০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, সুনামির ঢেউ একাধিকবার আছড়ে পড়তে পারে, তাই সতর্কতা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থান ছেড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে সতর্কতাকে ধাপে ধাপে কমিয়ে শেষ পর্যন্ত তুলে নেওয়া হলেও উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।

সোমবার সামাজিক মাধ্যমে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাসিন্দাদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে, সেখানকার মানুষকে দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। পাশাপাশি আগামী এক সপ্তাহ আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সামগ্রী সঙ্গে রাখা এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও পালানোর পথ আগে থেকেই চিহ্নিত করে রাখার কথাও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এর অন্তর্গত হওয়ায় এটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। জাপানে বছরে প্রায় ১৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনও তাজা, যেখানে প্রায় ১৮,৫০০ মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সরকার জানিয়েছে, নানকাই ট্রফ এলাকায় সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্প ও সুনামি হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha