বাড়িরাজ্যএস আই আর - এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জন অধিকার সংগ্রাম পরিষদের

এস আই আর – এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জন অধিকার সংগ্রাম পরিষদের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর : ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনীর বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সমস্ত গনতান্ত্রিক শক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান করল ত্রিপুরা জন অধিকার সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সভাপতি সুব্রত ভৌমিক জানান, ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দেশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষাগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে পরিযায়ী শ্রমিক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের উপর নেমে আসছে রাষ্ট্রের তরফ থেকে বর্বর আক্রমণ।

প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সাম্প্রদায়িক বুলডোজারের গর্জন, পুলিশের বুটের আওয়াজ, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নতুন নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে। গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার গরীব শ্রমজীবী ও পিছেপড়া মানুষের ভিটেমাটি, উপড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি, শেষ সম্বল। নাগরিকত্বের জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া প্রামন্য কাগজপত্র থাকা সত্বেও দেশের বৈধ নাগরিকদের উপর চলছে এই অমানবিক আক্রমণ। এভাবেই সাম্প্রদায়িক আর এস এস ও বিজেপি পরিচালিত ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের চক্রব্যূহে ধ্বংস হচ্ছে সাধারণ মানুষের বসতভিটা, ভবিষ্যৎ নাগরিক মর্যাদা। উদ্দেশ্য একটাই, দেশের কোটি কোটি গরীব, শ্রমজীবী, সংখ্যালঘু ও পিছেপড়া জনগোষ্ঠীর মানুষজনকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ও রাষ্ট্রহীন করে কর্পোরেট কোম্পানি গুলোর জন্য স্বস্তা শ্রমের বাজার তৈরি করা।

কর্পোরেট দালাল এই রাষ্ট্রের বর্তমান নিয়ন্ত্রকরা জানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোটি কোটি গরীব ভূমিহীন সর্বহারা ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য ঘাম রক্ত এক করে চলেছে। তাদের কাছে জন্মের সংশাপত্র, পুরানো দলিল বা পিতৃ জন্মের প্রামাণ্য কাগজ দস্তাবেজ নেই। এই অভাবকে হাতিয়ার করে দেশের কোটি কোটি ভূমিপুত্র, গরীব প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু মানুষজনকে রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করে আদানি আম্বানির মতো কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর লুটের স্বার্থে তাদেরকে দাস শ্রমিকে পরিনত করা। একই সাথে মোদি বিজেপির ব্যার্থতাকে আড়াল করা এবং লগ্নি পুজির স্বার্থে একের পর এক জন বিরোধী পদক্ষেপ থেকে জনগনের মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া। যাতে করে সাধারণ মানুষ তার রুজি রুটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের মতো বেঁচে থাকার ন্যূনতম জরুরি বিষয় নিয়ে আর ভাববার সময় না পায়। তিনি আরো বলেন, এন আর সি, সি এ এ-র পর অতি সম্প্রতি আর এস এস ও বিজেপির এই ষড়যন্ত্রের নয়া অঙ্গ হলো এস আই আর।

অর্থাৎ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী। যার মাধ্যমে আসলে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে এন আর সি করা, দেশের বহু সংখ্যক শ্রমজীবী ও পিছেপড়া মানুষকে হয় ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, না হয় সন্দেহ জনক ভোটারে পরিনত করা। যার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি ভূমিপুত্র, সংখ্যালঘু ও পিছেপড়া মানুষের নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। আর এস এস ও বিজেপি-র শীর্ষ মহলের এক্ষেত্রে আরও একটি বড় লক্ষ্য হলো, তাদের মতাদর্শের বিরোধী প্রদেশে লোকসভার আসন ভবিষ্যতে কমিয়ে দেওয়া। যার মাধ্যমে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে যেন ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয়। ইতিমধ্যেই বিহারে এস আই আর প্রয়োগ করা হয়েছে। তাও বিহার বিধান সভা ভোটের প্রাক্কালে। বিহারের ভোটার তালিকা মোতাবেক মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ২৪ লক্ষ। তার মধ্যে এস আই আর প্রয়োগে ৬৫ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। আশংকা করা হচ্ছে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দলিত, পিছেপড়া সংখ্যালঘু মুসলিম অংশের ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্ছিত হবে। একটি বেসরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক বিহারে দলিতদের মধ্যে ৭১ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারে। সংগঠনের সভাপতি সুব্রত ভৌমিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরায়ও এস আই আর চালু করা হতে পারে। যদি তাই হয়, তবে ত্রিপুরায়ও সবচেয়ে বেশি বেনাগরিক হবে ও ভোটাধিকার হারাবে রাজ্যের জনজাতি গরীব অংশের মানুষ। তারপরই চা বাগান শ্রমিক, ওবিসি ও সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরা জন অধিকার সংগ্রাম পরিষদ এস আই আর বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিহার, পশ্চিম বঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এস আই আর বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে সামিল হচ্ছে। ত্রিপুরা জন অধিকার সংগ্রাম পরিষদ রাজ্যেও এস আই আর বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সমস্ত গনতান্ত্রিক শক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান রাখছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য