Wednesday, August 10, 2022
বাড়িরাজ্যজাতীয় সড়কে আটকে পড়েছে কয়েক শতাধিক লরি, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল...

জাতীয় সড়কে আটকে পড়েছে কয়েক শতাধিক লরি, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল শ্রমিক সংগঠন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩ আগস্ট :  রাস্তা সংস্কারের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করল শ্রমিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়কের কাজ চলছে। কিন্তু বর্ষার মরসুম হওয়ায় রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। ফলে জাতীয় সড়কে পাহাড়ের মাটি এসে জমাট বাঁধছে। রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। মাটি জমাট বাধায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। গত কয়েকদিন ড্রজার দিয়ে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা হলেও, বর্তমানে গাড়ি ড্রজার দিয়ে পারাপার করা যাচ্ছে না। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়ে আছে।

তাই সমস্যা নিরসনের দাবিতে বুধবার আমবাসায় অবরোধে বসে ত্রিপুরা প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট মজদুর মহাসংঘ। তারা জানায়, অবিলম্বে আমবাসা কমলপুর রাস্তা সহ লংতরাইভ্যালী এলাকা এবং আঠাড়মুড়া চামল ছাড়া থেকে মুঙ্গিয়াকামী পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জায়গা চলাচলের অযোগ্য রাস্তা হয়ে আছে। এর ফলে যাত্রী থেকে শুরু করে গাড়ি চালকরা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। ঘটছে ছোটখাটো যান দুর্ঘটনা। তাই রাস্তাগুলি অবিলম্বে সংস্কার করার দাবিতে পথ অবরোধ বলে জানায় নেতৃত্বরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ধলাই জেলা শাসক। জেলা শাসকের আশ্বাসে দুই ঘন্টা পর শ্রমিকরা অবরোধ প্রত‍্যাহার করে। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস যাবত রাস্তায় এ ধরনের বেহাল অবস্থা। পণ্য বুঝাই লরি গুলি যাতায়াত করতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে কয়েক শতাধিক লরি আঠারোমুড়া এলাকায় আটকে রয়েছে। এবং সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে জরুরী পরিষেবার গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স এবং দমকলের ইঞ্জিন। ঘন্টার পর ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে আটকে থাকতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের। প্রশাসনিক কর্মীদের যানজটের সমস্যা নিরসনে দেখা যাচ্ছে না। এ ধরনের দুর্ভোগের শিকার হয়ে বহিঃরাজ্যের লরি চালকরা পণ্য নিয়ে রাজ্যে আসতে চাইছে না। রাজ্যের পণ্য আমদানি রপ্তানিতেও ব্যাঘাত ঘটছে। মানুষ সংকটের আতঙ্কে ভুগছে। আগরতলা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানচালকদের দীর্ঘ লাইন। সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্ত। শহরের এক পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা জানান রাস্তায় আটকে পড়েছে বহু তেলের ট্যাংকার। যদি দ্রুত রাস্তা সংস্কার হয় তাহলে আগামী বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে তেল পেট্রোল পাম্পে আনা সম্ভব হবে। তারপরও পেট্রোল পাম্পের কর্ণধারেরা অনেকটা সতর্ক থেকে সংকট এড়াতে গাড়ির জন্য ১০০০ টাকা পেট্রোল এবং বাইকের জন্য ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। তবে আটকে পড়া তেলের ট্যাংকার যদি দ্রুত পেট্রোল পাম্পে প্রবেশ করতে পারে তাহলে কোন ধরনের সংকট হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা। তবে বাইক চালকরা জানায় তারা শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ঘুরে তেল পাচ্ছে না। দু একটি পেট্রোল পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ৩০০ টাকার পেট্রোল মিলছে তাদের। এদিন দুর্ভোগের শিকার হয়ে কেউ কেউ প্রশাসনের দিকেও আঙ্গুল তুলতে শুরু করেছে। এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছে লাইনে দাড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী যান চালকরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য