স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর :ত্রিপুরা রাজ্যের সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা দীর্ঘ ২১ বছর ধরে চাকরি করলেও তাদের এখন পর্যন্ত নিয়মিতকরণ করা হয়নি। ফলে সমকাজে সম বেতন থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। নিয়মিতকরণের জন্য বিভিন্ন সময় তারা উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন শিক্ষকরা। উচ্চ আদালত ২০২১ সালে এবং ২০২৩ সালে দুটি মামলার রায় দিয়েছে। আদালত সমগ্র শিক্ষার শিক্ষক ও অশিক্ষক পদে কর্মরত সকলকে রাজ্য সরকারকে নিয়মিতকরণ করার জন্য নির্দেশ দেয়। অথচ আদালতের নির্দেশ মানতে নারাজ রাজ্য সরকার।
মাত্র কয়েকজনকে নিয়মিতকরণ করেছে সরকার। পাল্টা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে রাজ্য সরকার। একইভাবে তামিলনাড়ু সরকার মামলা করেছিল। গত তিন দিন আগে তামিলনাড়ু সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। ত্রিপুরা রাজ্যের সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকদের দাবি তামিলনাড়ুর মতো মামলা প্রত্যাহার করে যাতে সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকদের অবিলম্বে নিয়মিত করে সরকার। বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে যে এই দাবি করেন ত্রিপুরা রাজ্য সমগ্র শিক্ষা কর্মচারী সংঘের সভাপতি শান্ত দাস। তিনি বলেন, রাজ্যে বর্তমানে রাষ্ট্রবাদী সরকার রয়েছে। তারপরেও উচ্চ আদালতে দুবারের নির্দেশ কার্যকর করছে না।
কিন্তু রাজ্যে ২০১৮ সালে সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং ত্রিপুরার বর্তমান বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ আশ্বস্ত করেছিলেন তাদের নিয়মিত করনের বিষয়। গত সাড়ে সাত বছরে সেই দাবি পূরণ হয়নি। ইতিমধ্যে বহু শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন, আবার অনেকে চলে যাবেন। কারোর জন্য দয়া হয়নি সরকারের। এর মধ্যে আবার সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশ দিয়েছে ২০১১ সালের ২৯ জুলাইয়ের পূর্বে যারা সমগ্র শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হয়েছে তাদের কোন টেট লাগবে না। সুতরাং সরকার সমগ্র শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে নিলে উপকৃত হবে সমগ্র শিক্ষার শিক্ষকরা। এমনটাই দাবি করলেন তারা।

