স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১ সেপ্টেম্বর : রবিবার তেলিয়ামুড়া জনসমাবেশে গিয়ে আমরা বাঙালি নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এই অভিযোগ তুলে সোমবার প্রতিবাদ সংগঠিত করলো আমরা বাঙালি। দলের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের প্লে কার্ডের ছবি পোড়ানো হয়। আমরা বাঙালি দলের রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, ১৯৭৮ সালে সিপিআইএম যখন সরকারে আসে তখন ৮০ -এর জুনের গণহত্যা শুরু হয়।
তখনই ত্রিপুরার মানুষ উগ্রপন্থী সম্পর্কে জানতে পারে। এবং এই গনহত্যার আগে নিপেন চক্রবর্তী নিজ চেম্বারে মানিক বাবুকে ডেকে শলাপরামর্শ করেছিলেন। যা পরবর্তী সময় আশির গণহত্যার মাধ্যমে সামনে এসেছে। তখন ছয় হাজার বাঙালি মারা গেছে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ বাঙালির ক্ষতি হয়েছে। মহিলারা ধর্ষণ হয়েছে। সারে চার লক্ষাধিক বাঙালি ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যথায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা এখনো বাড়ি ঘরে ফিরতে পারেনি। তাদের কোন বিচার হয়নি। বরং ছয় থেকে সাত হাজার উগ্রপন্থীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে কোটি কোটি টাকা দিয়েছে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। শুধু তাই নয়, এই উগ্রপন্থীদের সরকারি চাকরি দিয়েছে বামফ্রন্ট সরকার। এখানেই শেষ নয়, বামফ্রন্ট সরকার দলের নেতা বানায় উগ্রপন্থীকে। যেমন ললিত দেববর্মা, প্রাক্তন বিধায়ক খগেন্দ্র জমাতিয়া। তাদের কারণে ২০০০ সাল পর্যন্ত রাজ্যের বহু মায়ের কূল খালি হয়েছে। কত বোনের সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে, এর হিসেব নেই। আমার বাঙালি দলের রাজ্য সম্পাদক আরো বললেন, বামফ্রন্ট যে রাজ্যে উগ্রপন্থির স্রষ্টা সেটা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তীর কথায় স্পষ্ট হয়েছিল।
নৃপেন চক্রবর্তীর উক্তি ছিল আমি যদি উপজাতির ঘরে জন্ম নিতাম তাহলে আমিও উগ্রপন্থী হতাম। ১৯৯৯ সালে আবার মাস্টারদা সূর্য সেনের মূর্তি তেলিয়ামুড়ায় স্থাপনে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছিলেন স্বাধীন ত্রিপুরা গড়ার জন্য কিছু বিভ্রান্ত যুবক বন্দুক খাতে নিয়ে আন্দোলন করছে। আমি সেই যুবকদের দোষ দিচ্ছি না। এতে আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে মানিক বাবুর বক্তব্যে কারা উগ্রপন্থী সৃষ্টি করেছে। আবার রবিবার তেলিয়ামুড়ায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি করছেন, লন্ডনের এক সংবাদ সংস্থা বলেছে রাজ্যে শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে উগ্রপন্থীদের হাতে মিজোরামের ধাচে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষপাতী। এরপরে আর কোন প্রমাণ লাগে না সিপিআইএম রাজ্যে উগ্রপন্থের জন্মদাতা। বর্তমান সরকার একই ধাচে চলছে। রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নেই। জামাই আদরে বর্তমান সরকারও উগ্রপন্থীদের বরণ করছে। অথচ বাঙালি আজও বিচার পায়নি। তিনি আরো বলেন, বাঙালিরা আজ অধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে। যা দেখে বর্তমান সরকার এবং বামফ্রন্টের মাথা গরম হয়ে গেছে। তারা বুঝতে পারছে সর্বনাশ হবে তাদের। তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমরা বাঙালি। আমরা বাঙালি সাবধান করে দিতে চায়, এ ধরনের বাঙালি বিরোধী মন্তব্য থেকে যাতে বিরত থাকে তারা। সিপিআইএম ধর্ম বিরোধী, বাঙালি বিরোধী এবং কোটি কোটি মানুষকে বিশ্বের মধ্যে খুন করেছে। রক্তের হোলি খেলেছে তারা। তারা নাস্তিক। তারা স্ত্রীর সঙ্গে যে সম্পর্ক, মা বোনের সাথে একই সম্পর্কের বিশ্বাসী। তারা পশুর আদর্শে বিশ্বাসী। তাদের বিদায়ের দাবী করলেন গৌরাঙ্গ রদ্র পাল।

