স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১ সেপ্টেম্বর : আইজিএম হাসপাতালে আক্রান্ত সাফাই কর্মীরা। প্রতিবাদে কর্মবিরতি করে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় তারা। তাদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে আইজিএম হাসপাতালে সাফাই কর্মীর দায়িত্ব পালন করে আসছে। দীর্ঘদিন সুলভ কোম্পানির অধীনে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা যায়, সুলভ কোম্পানির টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অল ত্রিপুরা সিকিউরিটি ফোর্স নামে একটি সংস্থা হাসপাতালে সাফাইয়ের টেন্ডার নেয়। এই সংস্থার পক্ষ থেকে আগে সাফাই কর্মীদের নিযুক্তি দিতে নয়া ফরমান জারি করেছে নয়া সংস্থা। ফরমানে যে নির্দেশ সামনে উঠে এসেছে তাতে লক্ষ্য করা হয়েছে যারা সাফাই কর্মী হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করে এসেছে তাদের নতুন করে শারীরিক সুস্থতার পরীক্ষা দিতে হবে।
এর জন্য তাদের কাছ থেকে ফর্ম পূরণের টাকা, পোশাকের পয়সা সহ বিভিন্ন ভাবে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে নয়া টেন্ডার পাওয়া সংস্থা। এটি বাদে ঝামেলা। গত কয়েকদিন ধরে তাদের উপর সংশ্লিষ্ট সংস্থা চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এবং মহিলা সাফাই কর্মীদের রাতের বেলা দশটা এগারোটার পর ফোন করে জ্বালা যন্ত্রনা করেন নয়া টেন্ডার পাওয়া সংস্থার কর্মকর্তারা। এবং তাদের বলা হয় বর্তমানে যারা হাসপাতালে সাফাই কর্মী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন তাদের সকলকে চাকরি দেওয়া সম্ভব হবে না। ইন্টারভিউর মাধ্যমে যারা পাশ করবে তাদের চাকরি দেওয়া হবে। সোমবার সকাল থেকে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে সাফাই কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় অল ত্রিপুরা সিকিউরিটি ফোর্স সংস্থার সুপারভাইজারের। সাফাই কর্মীরা সুপারভাইজারের কাছে দাবি করেন অল ত্রিপুরা সিকিউরিটি ফোর্সের মালিক যাতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে তর্ক বিতর্ক এতোটাই চরম আকার ধারণ করে যে সুপারভাইজার একসময় উত্তেজিত হয়ে দুজন মহিলা সাফাই কর্মীকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
তারপর হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সাফাই কর্মীরা। তাদের দাবি অভিযুক্ত সাফাই কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কারা ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিতে পারবে না। পুরনো সংস্থার পক্ষ থেকে যেভাবে তাদের পরিচালনা করা হতো সেইভাবে পরিচালনা করতে হবে। পুরনো সংস্থা তাদের ১০ হাজার টাকা বেতন দিতো, নয়া সংস্থার ১০ হাজার টাকাই বেতন দিতে হবে। সাফাই কর্মীর কাজ করতে গিয়ে যদি কোন জিনিসপত্র নষ্ট হয় তাহলে এর মূল্য সাফাই কর্মীরা দেবেন না। অন্যতম দাবি হলো, তারা সকলেই সাফাই কর্মীর কাজ করে সংসার পরিচালনা করেন, তাই ১৩৬ জন সাফাই কর্মীর মধ্যে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। সকলকে নিযুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেন তারা। এমনটাই দাবি করে সোমবার হাসপাতালে কর্মবিরতি করেন সাফাই কর্মীরা। এতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠে। অথচ চোখ কান খুলেনি স্বাস্থ্য দপ্তরের।

