স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ আগস্ট : নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করল উত্তর জেলার বিশেষ আদালত। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঞ্চনপুর থানা এলাকার ১৩ বছরের এক নাবালিকা নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পরে। নাবালিকার মা লক্ষ্য করে মেয়ে বারে বারে বমন করছিল। ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল নাবালিকার মা নাবালিকাকে কাঞ্চনপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নাবালিকার মাকে জানান নাবালিকা গর্ভবতী। তারপর নাবালিকার মা মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে নাবালিকা জানায় তাদের প্রতিবেশী মশেন্দ্র শব্দকর ও নির্মল শব্দকর তার বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনার বিষয়ে জানার পর ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল নাবালিকার মা কাঞ্চনপুর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি অফিসার নরেন্দ্র রিয়াং তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। তারপর আদালতে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। উত্তর জেলার বিশেষ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময় মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য বাক্য গ্রহণ করা হয়।
আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার উত্তর জেলার বিশেষ আদালতের বিচারক অংশুমান দেববর্মা দুই অভিযুক্ত মশেন্দ্র শব্দকর ও নির্মল শব্দকরকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। দুই আসামিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬-এর ২ আই ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি পক্সো আইনের ৪ ধারায় দুই আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। আদালতের এই রায়ের বিষয়ে জানান সরকার পক্ষের আইনজীবী সুদর্শন শর্মা। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ন্যায় বিচারের আশায় অপেক্ষা করে আসছিল নাবালিকার মা-বাবা। অবশেষে উত্তর জেলার বিশেষ আদালতের রায়ে ন্যায় বিচার পেল নাবালিকার মা-বাবা। স্বাভাবিক ভাবেই আদালতের রায়ে তারা যথেষ্ট খুশি।

