Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যশহরের দুই থানা এলাকায় পৃথক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক

শহরের দুই থানা এলাকায় পৃথক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ আগস্ট : স্মার্ট সিটির আনস্মার্ট ওসিদের চরম অবহেলার কারণে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন শহরের বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে শুরু করে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে যুবক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা। এবার একই রাতে আগরতলা পূর্ব থানা এলাকা এবং আমতলী থানাধীন এলাকায় দুটি চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পূর্ব থানাধীন উত্তর বনমালীপুর ইয়ংস কর্নার ক্লাব সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ইন্দিরা দেববর্মার বাড়িতে সকলের অনুপস্থিতিতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা সংগঠিত করলো চোরের দল।

 শনিবার রাতে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা সংগঠিত করে চোরের দল। রবিবার সকালে বাড়ির মালিক বাড়িতে এসে চুরির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। বাড়ির মালিক ইন্দিরা দেববর্মা জানান শনিবার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। ওনার মা ওনার বোনের বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়েছিল। রবিবার সকালে বাড়িতে এসে দেখতে পান বাড়ির মুল ফটক বন্ধ। কিন্ত বাড়ির সিরির সামনে থাকা গ্রিল ভাঙ্গা। ঠাকুর ঘড়ের দরজাও ভাঙ্গা। চোরেরা ঘড়ের পিছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ঘর প্রথমে ওনার মায়ের ঘড়ের লকার ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার গুলি নেয়। তারপর চোরেরা মাঝের ঘরের বিছানার নিচে থাকা নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। সবশেষে চোরেরা ওনার ঘরে প্রবেস করে। এবং ওনার ঘর থেকেও নগদ অর্থ স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। ওনার ঘরে অফিসের একটা মোবাইল ছিল। সেই মোবাইলটিও চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ইন্দিরা দেববর্মা পুলিসকে খবর দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।এদিকে আমতলী থানার অন্তর্গত বিবেক নগর স্থিত নিউ রাম ঠাকুর সংঘ এলাকায় কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। রাতের অন্ধকারে চোরের দল মন্দিরের গ্রিলের দরজায় দেওয়া তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে প্রণামী বাক্স ভেঙ্গে প্রায় আট হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। একই সাথে মন্দিরের বিভিন্ন কাশ পিতলের বাসন পত্র সহ অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোরের দল। প্রত্যেকদিন স্থানীয় ইন্দ্র সূত্রধর নামে বৃদ্ধ মহিলা এই মন্দিরে পূজা দেন। রবিবার সকালে তিনি এসে দেখতে পান তালা ভাঙ্গা ভেতরের সব জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রণামী বাক্সের টাকা সহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। দুটি চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত একদিন আগে রামনগর চার নম্বর রোড এলাকায় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেও থাবা বসিয়েছে চোরের দল। অথচ অধিকাংশ চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। একদিকে যেমন থানা বাবুদের রাতের বেলা টহলদারির চরম গাফিলতি রয়েছে, অপরদিকে গোয়ান্দা শাখারও অনেক ব্যর্থতা সামনে উঠে আসছে। প্রতি রাতে এভাবে চুরির ঘটনা সংঘটিত হলেও পুলিশ কতটা জনসম্মুখে বিশ্বাস ধরে রাখতে পারছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে থানার ওসি বাবুদের ফোন করা হলে তারা কখনো ফোন ধরেন না, আবার কখনো বিভিন্ন মিটিংয়ে আছে বলে সাধারণ মানুষের ফোন কেটে দেন। কোন একটি অভিযোগ নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা আগে পুলিশ তদন্তে নামতে চায় না। শহর এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে সিসি ক্যামেরা থাকার পরেও পুলিশ সেসব সিসি ক্যামেরা দিয়ে ঘটনার সনাক্ত করতে সঠিক সময়মতো দায়িত্ব পালন করছে না। যার ফলে চোর, ছিনতাইবাজ সহ অসামাজিক কার্যকলাপের জড়িত অভিযুক্তরা অনায়াসে পুলিশের হাত থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কুম্ভ নিদ্রায় আছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য