Friday, May 20, 2022
বাড়িখেলাপ্রথম পর্যায়ে নেয়া হলো ৭৩ জন স্পটারঃ কিশোর

প্রথম পর্যায়ে নেয়া হলো ৭৩ জন স্পটারঃ কিশোর

ক্রীড়া প্রতিনিধি।। রাজ্য ক্রিকেটের আগামীদিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা। যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে টিসিএ। আগামীদিনে রাজ্য ক্রিকেটের রূপরেখা কেমন ভাবে সাজানো হয়েছে সে বিষয়ে তথ্য সহ বিস্তারিত জানালেন টিসিএ’র যুগ্ম সচিব কিশোর কুমার দাস। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে বেশকিছু গঠনমূলক সিদ্ধান্ত এবং সেগুলি বাস্তবায়নের কথা তিনি ঘোষণা করলেন।

তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলা এবং মহকুমা থেকে ক্রিকেটার তুলে আনার জন্য বিভিন্ন পকেট গুলিতে স্পটার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা। মোট ১১০০ স্পটার  নিয়োগ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে তিনজন পর্যবেক্ষককে নির্বাচন করে ৭৩ জন স্পটার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে ৭৩ জন স্পটারের নাম ঘোষণা করা হয়। যাদের মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের মাধ্যমে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে। যুগ্ম সচিব জানান, রাজ্যের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হবে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরে। এরজন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।

এছাড়া ধর্মনগরে স্টেডিয়ামের কাজও শেষে হয়ে গেছে। মার্চ মাসে ওই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন হবে। এমবিবি মাঠের উপরের জায়গায় একটা হোস্টেল বানানো হয়েছে ক্রিকেটারদের জন্য। তাও আগামী কিছুদিনের মধ্যে ক্রিকেটারদের জন্য চালু করা হবে। পুলিশ ট্রেনিং মাঠে একটি জিম তৈরি করা হয়েছে পাশাপাশি একটি হোস্টেল তৈরি করা হয়েছে। যেখানে একশ কুড়িজন থাকতে পারবে। কমলপুরে তৈরি হওয়া ক্রিকেট মাঠটিও আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্রিকেটারদের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। সেই মাটিতে যে পিচ তৈরি করা হয়েছে তা মোটেই ভালো ছিল না। তার জন্য নতুন করে মাটি দিয়ে আবার পিচ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর খুব শীঘ্রই তালতলার মাঠের কাজ শুরু হবে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে যাবে এই মাঠ। এতে উপকৃত হবে এই এলাকার ক্রিকেটাররা। কিশোর দাস বলেন আগে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার কাছে মাত্র দুটো মাঠ ছিল। যার কারণে ওই দুটি  মাঠের উপর সমস্ত স্থানীয় ক্রিকেট গুলো নির্ভর করতো। কিন্তু বর্তমানে করুনার অতিমারি কাটিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যে মোট ছয়টি ক্রিকেট মাঠ তৈরি হবার মুখে। এতে আগামী দিনে ঘরোয়া জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ করতে কোন অসুবিধে হবে না। গত এক বছরে টানা কাজ করার ফলে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলা ও মহকুমার মাঠগুলো অনেকটাই কাজ সেরে ফেলা গেছে। ঘরোয়া আসরগুলি করতে আর অসুবিধেই থাকবে না রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার। পাশাপাশি বর্ষা কালীন সময়ে রাজ্যের ক্রিকেটার অনুশীলনের সুযোগ পাবে ঐ সমস্ত স্টেডিয়াম গুলিতে। বর্তমানে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা তাই রাজ্য ক্রিকেট আমূল পরিবর্তন আনার জন্য দ্রুতগতিতে এই কাজগুলো শেষ করবার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সমস্ত স্টেডিয়ামগুলো তৈরি হয়ে গেলে শুধু ছেলেরাই নয় মহিলা ক্রিকেটাররাও নিজেদের তৈরি করার ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ পাবে। পাশাপাশি জাতীয় স্তরের আসরগুলোতে খেলতে যাবার আগে রাজ্য দলকে বাইরে গিয়ে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে হয়। যেখানে খরচ হয় অনেক টাকা। কিন্তু আগামী কিছুদিনের মধ্যে রাজ্যের ক্রিকেটের সার্বিক প্রসার ঘটলে বহির্রাজ্যের দলগুলো এখানে খেলতে আসবে। এতে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার ঘরেও অর্থ আসবে। সাংবাদিক সম্মেলনে কিশোর দাস জানান শুধু স্পটার নয় স্কোরর, ফিজিও, পিচ কিউরেটর সহ মাঠের যাবতীয় এবং দলের যাবতীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে সমস্ত ক্ষেত্রগুলো বিশেষ প্রয়োজন সেগুলোতেও নজর দিয়ে কাজ করছে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য