বাড়িজাতীয়শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেল স্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের সূচনা করবেন...

শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেল স্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেল স্টেশন থেকে জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের শুভ সূচনা করবেন। প্রায় ২,৬০০ যাত্রী ধারণ ও ক্ষমতার এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ পরিবেশ-বান্ধব। কারণ, এটি নিজের ভেতরেই হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে চলবে, যার ফলে কোনও ধোঁয়া বা কার্বন নির্গমন হবে না। এই ট্রেন চলাচলের সময় কেবল জলীয় বাষ্প ও তাপ উৎপন্ন হবে।

রেল মন্ত্রক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশে ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের ৯৯ শতাংশেরও বেশি বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, রেল এবার পরিচ্ছন্ন শক্তির অভিমুখে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইনের ওপর নির্ভর না করে, এই ট্রেনটি নিজের ভেতরেই হাইড্রোজেন এবং বাতাসে থাকা অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাহায্যে বিদ্যুৎ তৈরি করবে। ১০ কামরার এই ট্রেনে দুটি পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রী কামরা রয়েছে। প্রতিটি পাওয়ার কারে ফুয়েল সেল, ব্যাটারি ও হাইড্রোজেন সিলিন্ডার বসানো হয়েছে। ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হলেও, জিন্দ-সোনিপত শাখায় এটি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চালানো হবে।

রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বেশ কিছু দেশে হাইড্রোজেন ট্রেন চললেও সেগুলি সাধারণত দুই থেকে চারটি কামরার হয়ে থাকে। সেই তুলনায় ভারতের এই ১০ কামরার ট্রেনটি যাত্রী ধারণক্ষমতার নিরিখে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম হাইড্রোজেন যাত্রিবাহী ট্রেন। ট্রেনে হাইড্রোজেনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাইড্রোজেন গ্যাস লিকেজ, আগুন, ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য এতে আধুনিক সেন্সর লাগানো হয়েছে। সামান্যতম গোলযোগ দেখা দিলেই হাইড্রোজেনের সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রেন এবং জিন্দে অবস্থিত হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই ট্রেনের জন্য হরিয়ানার জিন্দে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে জল থেকে হাইড্রোজেন প্রস্তুত করা হবে, তা সুরক্ষিতভাবে মজুত রাখা হবে এবং পরে ট্রেনে ভরা হবে। এই ব্যবস্থাকে ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন’ (পিইএসও)-এর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, ট্রেনটিকে ট্র্যাকে নামানোর আগে এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ব্রেক, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গতি সংক্রান্ত সমস্ত কারিগরি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া জার্মানির একটি নিরপেক্ষ সংস্থা ‘টিইউভি সুড’ -এর পক্ষ থেকেও এর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছে।

ভারতীয় রেলের নেতৃত্বে তৈরি এই প্রকল্পে ‘রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন’ (আরডিএসও), ‘ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি’ (আইসিএফ) এবং ‘মেধা সার্ভো ড্রাইভস’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে কালকা-শিমলার মতো অন্যান্য পার্বত্য রেলপথেও হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং পরিবেশ-বান্ধব রেল পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসারে এই প্রকল্পকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য