বাড়িজাতীয়সংসদ অধিবেশন এবং বিজেপি সংগঠনে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সংসদ অধিবেশন এবং বিজেপি সংগঠনে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (হি.স.): ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন দল গঠন এবং ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল (মনসুন) অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি. এল. সন্তোষ সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। তবে এই বৈঠকের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দলের অন্য একটি সূত্রের মতে, এই বৈঠকটিকে কেবল সংসদের আসন্ন অধিবেশনের প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। বরং এটিকে সরকার এবং বিজেপি সংগঠনে বড় ধরনের রদবদলের রূপরেখা নির্ধারণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা উচিত।

রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে জোর চর্চা চলছে। কারণ গত কয়েক দিন ধরে চলা একাধিক বৈঠকের যে সিলসিলা চলছিল, বুধবার রাতের বৈঠকটিকে সেই সমস্ত আলোচনার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রের খবর, বুধবারের এই মূল বৈঠকের আগে গত কয়েক দিনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম বৈঠকটি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পদস্থ আধিকারিকরা অংশ নেন। এরপর দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে; সেখানে অমিত শাহ, নিতিন নবীন ও বি. এল. সন্তোষ উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেন। চতুর্থ বৈঠকটি হয় অমিত শাহ ও নিতিন নবীনের মধ্যে। আর পঞ্চম বৈঠকটি গত ১৪ জুলাই রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও শামিল হয়েছিলেন। পরে নিতিন নবীন ও বি. এল. সন্তোষও সেই বৈঠকে যোগ দেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার ও সংগঠন—উভয় স্তরেই একটি ব্যাপক রণকৌশল তৈরি করা। বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া বৈঠকটিকে এই প্রক্রিয়ার শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে প্রথমে ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশন নিয়ে বিস্তারিত কৌশল আলোচনা করা হয়। বিরোধী দলগুলির তুলতে পারা সম্ভাব্য ইস্যু, সরকারের আইনি অগ্রাধিকার, সংসদের ভেতরে সমন্বয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। সরকার চায় অধিবেশন চলাকালীন প্রধান বিল ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি কার্যকরভাবে পেশ করতে এবং বিরোধীদের আক্রমণের রাজনৈতিক ও তথ্যগত জবাব দিতে।

বৈঠকের দ্বিতীয় প্রধান বিষয় ছিল বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় সম্ভাব্য রদবদল। সম্প্রতি জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন জাতীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নতুন দায়িত্ব বণ্টন, রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ কৌশল তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে।

সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলও ছিল এই বৈঠকের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। কোন কোন মন্ত্রীর দফতর পরিবর্তন হতে পারে, কোন নতুন মুখকে সরকারে সুযোগ দেওয়া হতে পারে এবং এনডিএ-র শরিক দলগুলিকে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গভীর মন্থন হয়েছে।

এছাড়াও বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে এমন রাজ্যগুলির রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ওই রাজ্যগুলিতে দলীয় সংগঠনের প্রস্তুতি, প্রচার অভিযান, বুথ পরিচালনা, সহযোগী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় এবং স্থানীয় ইস্যুগুলির ওপর বিশেষ রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচনী রাজ্যগুলিতে সংগঠনকে আরও বেশি সক্রিয় ও কার্যকর করে তোলাই এখন বিজেপি নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েক দফা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বিজেপি এবং সরকারের আগামী কার্যপদ্ধতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য