Saturday, June 15, 2024
বাড়িবিশ্ব সংবাদমুক্তি পেয়েও হামাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরায়েলি জিম্মির বিষোদ্‌গার

মুক্তি পেয়েও হামাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরায়েলি জিম্মির বিষোদ্‌গার

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১৭ মে: ইসরায়েলে গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার সময় অন্যদের সঙ্গে জিম্মি হয়েছিলেন শোশান হারান, তাঁর মেয়ে ও দুই নাতিও। গাজায় ৫০ দিন জিম্মি থাকার পর মুক্তি পান তাঁরা। এ ঘটনা হারানের তিন বছর বয়সী নাতির ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল, সে কথা স্মরণ করছিলেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন ইসরায়েলি জিম্মির পাশাপাশি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শোশান হারান।দশকের পর দশক ইসরায়েলি দখলদারির শিকার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সদস্যরা ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়ে ২৫৩ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান। ওই দিন থেকেই এ উপত্যকায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।

হারান বলেন, ‘আমরা মুক্তি পাওয়ার তিন সপ্তাহ পর নাতি ইয়াহেল ফিসফিস করে কথা বলত। ভয় পেত জোরে কথা বলতে। সবার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে চাইত ইয়াহেল। বাইরে যেতেও ভয় পেত। দেখত দুঃস্বপ্ন। এটা ভেবে শঙ্কিত হতো যে তাকে আবার জিম্মি করা হতে পারে।’দশকের পর দশক ইসরায়েলি দখলদারির শিকার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সদস্যরা ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়ে ২৫৩ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।দুঃখজনকভাবে আমরা দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেখছি। জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার অজুহাতে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা।

আহমেদ শাহরাউয়ি, আলজেরিয়ার কূটনীতিক ‘সন্ত্রাসের মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার হিসেবে ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়ে জিম্মি করার’ ঘটনার নিন্দা জানানোর ওপর গতকালের এ বৈঠকে জোর দেয় যুক্তরাষ্ট্র।ইসরায়েলে হামাসের ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন আয়লেত সামেরানোর ছেলে। তাঁর মরদেহ গাজায় নিয়ে যান হামাস যোদ্ধারা। আরেক ইসরায়েলি নাগরিক গিলি রোমানের বোনকে জিম্মি করার পর নভেম্বরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আয়লেত ও গিলিও বক্তব্য দেন।কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংগঠন ফেয়ার প্ল্যানেটের প্রতিষ্ঠাতা হারান (৬৮) বলেন, ‘নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজন, নারী, শিশু ও বয়স্কদের জিম্মি করে নিয়ে যাওয়ার “নজিরবিহীন সন্ত্রাসবাদের ধরনকে” আমরা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘যেটিকে আজ আপনারা আমাদের সমস্যা বলে মনে করছেন, তা অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যেকের ও প্রতিটি দেশের জন্য এক বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।’

ইতিমধ্যে তিনটি প্রস্তাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস–গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘এখনো হামাস ও অন্যান্য “সন্ত্রাসী” গোষ্ঠী হাল ছাড়েনি। তাই আজ, আসুন আমরা আবারও হামাসের কাছে অবশিষ্ট সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাই। সহজভাবে বললে, এটি সব দিকের জীবন বাঁচাবে।’

ইসরায়েলের কারাগারে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে এমন দাবির প্রেক্ষাপটে আলজেরিয়ার কূটনীতিক আহমেদ শাহরাউয়ি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেখছি। জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার অজুহাতে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা।’এই কূটনীতিক আরও বলেন, জিম্মি করার ঘটনা ‘সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ’ একটি বিষয়। তবে গণহারে ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলের আটক বা গ্রেপ্তার করার ঘটনারও সমালোচনা করেন তিনি।

দ্য প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে এখন অন্তত ৯ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় যেসব ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা এই সংখ্যার বাইরে।অবশ্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইসরায়েলের নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাজ করে। যেসব ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের খাবার, পানি, ওষুধ ও যথাযথ পোশাক সরবরাহ করে তারা।জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাড এরডান বৈঠকে বলেন, ‘গাজায় হামাসের হাতে এখনো ১৩২ জন জিম্মি রয়েছেন। তাঁদের দুর্দশা ও মুক্তি নিয়ে জাতিসংঘের কোনো পরিষদ এই প্রথম বৈঠকে বসল। জিম্মিদের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মানবিক ইস্যু। এ ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে।’ পরিষদ কি হামাসের নিন্দা জানিয়েছে? সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য