স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ৩ এপ্রিল : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ছিন্নভিন্ন করেছে আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেন। হরমুজে ইরানের নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি-র অভাবে ধুঁকছে পৃথিবী। তবে শুধু তেল নয় হরমুজে তালা পড়ায় প্রযুক্তি, চিকিৎসাক্ষেত্র ও সেমিকন্ডাক্টের মতো ক্ষেত্রগুলিতে। কারণ, এইসব ক্ষেত্রগুলি সচল রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী হল হিলিয়াম গ্যাস। গোটা বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ হিলিয়াম গ্যাস রপ্তানি হয় হরমুজ প্রণালী থেকে। ভারত চাহিদার ১০০ শতাংশ হিলিয়ামই বাইরে থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের জেরে তা কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।
এলএনজি উত্তোলনের মাধ্যমেই পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ হিলিয়াম গ্যাস। যা ব্যবহৃত হয় প্রযুক্তি, চিকিৎসাক্ষেত্র, মহাকাশ গবেষণা ও সেমিকন্ডাক্টে। গ্যাসটি অত্যন্ত হালকা হওয়ায় একে সংরক্ষণ করা কঠিন। সংরক্ষণ করা হলেও ধীরে ধরে এটি বায়ুমন্ডলে মিশে যায়। যা পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব। এদিকে রিপোর্ট বলছে, বিশ্বব্যাপী হিলিয়ামের মজুদ মাত্র ৪৫ দিনের জন্য সীমাবদ্ধ। সুতরাং, হরমুজ প্রণালী চালু না হলে, পৃথিবীজুড়ে ভয়াবহ আকার নেবে সংকট। এদিকে জানা যাচ্ছে, ইরানের হামলায় কাতারে জ্বালানি গ্যাসের উৎপাদন ক্ষেত্র ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলএনজির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিলিয়াম উৎপাদন। গোটা পৃথিবীর চাহিদার ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হিলিয়াম আসে কাতার থেকে। আমেরিকা ও রাশিয়া কিছুটা হিলিয়াম উৎপাদন করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে।
এর ঠিক পরই একাধিক সূত্র ও ইরানের সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিমান ধ্বংসের মার্কিন ওই পাইলট প্যারাশ্যুটের মাধ্যমে অবতরণের চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইরানের সেনাবাহিনী। আমেরিকার বিশ্বাস ছিল ওই বিমানের পাইলট হয়ত জীবিত রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টাও চালানো হয়। ইরান থেকে তাঁকে বের করার যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসির তরফে অবশ্য সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি এদিন খারিজ করেছে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড। এবিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়, আইআরজিসি দাবি করেছে তারা শত্রু দেশের একটি বিমান হরমুজের কাছে কেশম দ্বীপে ধ্বংস করেছে। তবে আমেরিকার সমস্ত যুদ্ধবিমানই নিরাপদে রয়েছে। ইরান এর আগেও বহুবার এই ধরনের দাবি করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যে।

