বাড়িজাতীয়জনজাতীয় যুবকদের ক্রীড়া প্রতিভা রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

জনজাতীয় যুবকদের ক্রীড়া প্রতিভা রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল (হি.স.): রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের যুবসমাজ, বিশেষ করে জনজাতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের রাষ্ট্রের অমূল্য সামাজিক পুঁজি হিসেবে অভিহিত করেছেন। একটি বিশেষ নিবন্ধের মাধ্যমে নিজের চিন্তাধারা ভাগ করে নিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁদের খেলাধুলায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের গ্রামীণ ও বনাঞ্চলে বিদ্যমান প্রাকৃতিক প্রতিভাকে সঠিক প্রশিক্ষণ ও সম্পদের মাধ্যমে বিকশিত করতে পারলে দেশ ক্রীড়াজগতে নতুন কীর্তি স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

রাষ্ট্রপতি জনজাতীয় অঞ্চলের শিশুদের সহজাত ক্রীড়া প্রতিভার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, এই শিশুরা সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও প্রকৃতির মাঝে নিজেদের খেলার জগত তৈরি করে নেয়। মাটি, গাছ, বীজ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বস্তু ব্যবহার করে তারা খেলার সরঞ্জাম তৈরি করে এবং পূর্ণ উৎসাহের সাথে খেলে। এই স্বাভাবিক প্রবণতা ও শক্তি যদি আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য এনে দিতে সক্ষম। উদাহরণ হিসেবে তিনি ওড়িশার ১৫ বছর বয়সী অ্যাথলিট অঞ্জলি মুন্ডার কথা উল্লেখ করেন, যিনি ‘খেলো ইন্ডিয়া জনজাতীয় ক্রীড়া ২০২৬’-এ দুর্দান্ত প্রদর্শন করে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছেন এবং দেশজুড়ে যুবকদের অনুপ্রাণিত করেছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, জনজাতীয় সমাজে তিরন্দাজির মতো ক্রীড়া শৈলীর ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। তিনি ‘সাঁওতাল হুল’-এর মতো ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই সময়েও জনজাতীয় বীরদের যুদ্ধকৌশল ও তিরন্দাজির প্রশংসা করা হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি একলব্যকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি আরও জানান যে, সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্তরে ছোট ছোট উদ্যোগও জনজাতীয় প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি নিজের গ্রামের একটি আবাসিক বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন, যেখানে বঞ্চিত শ্রেণির শিশুদের জন্য ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন যে, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, দলগত সংহতি এবং আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করে। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ অভিযানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আগে ক্রীড়া সুবিধা মূলত মহানগরগুলিতে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন গ্রামীণ ও জনজাতীয় অঞ্চলেও ক্রীড়া একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিস্তার ঘটছে। তিনি ১৯২৮ সালে হকিতে ভারতের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে জনজাতীয় খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। নিবন্ধের শেষে তিনি যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে বার্তা দেন— “খেলো ইন্ডিয়া! খুব খেলো ইন্ডিয়া!”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য