স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১৯ অক্টোবর : আইনজীবী থেকে শিক্ষক। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী থেকে চাকরি হারানো সরকারি কর্মী। শিশু থেকে বৃদ্ধ। পড়ুয়া থেকে অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। আমেরিকার রাজপথে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে সরব। উঠল স্লোগান, ”নো কিংস।” অর্থাৎ আমেরিকায় কোনও রাজা নেই। এর আগেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন তীব্র প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে। শনিবার মার্কিন মুলুক দেখল তারই পুনরাবৃত্তি।
গত জুনে খোদ প্রেসিডেন্টের জন্মদিনে ‘নো কিংস’, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, ‘সংবিধান বাঁচাও’ স্লোগান উঠেছিল আমেরিকার মাটিতে। সেই প্রতিবাদই যেন নতুন করে দানা বাঁধছে। নিঃসন্দেহে এতে অস্বস্তি বাড়বে ট্রাম্পের। জানা যাচ্ছে, সবশুদ্ধ ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এদিন পথে নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি, প্রেসিডেন্টের বহু নীতিই তাঁদের পছন্দ নয়। মিছিলে শামিল সল্ট লেক সিটির এক আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ”আমরা নীতিগুলি নিয়ে তর্ক করতে পারি। এভাবেই হয়তো সমস্যার সমাধান করা যেত। কিন্তু আমরা মানুষের মূল্য নিয়ে কোনও তর্ক নিশ্চয়ই করতে পারি না।”
প্রধান মার্কিন শহরগুলি, যেমন ওয়াশিংটন ডিসি, আটলান্টা, নিউ ইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকোতে মিছিলে ছিল রীতিমতো জনারণ্য। কেবল নিউ ইয়র্কেই লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয়েছিল বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। আমেরিকার পতাকা হাতে নিয়ে সেই মিছিলের পরিষ্কার স্লোগান, ”নো মোর ট্রাম্প।” অর্থাৎ আর নয় ট্রাম্প।
যদিও রিপাবলিকানরা স্বাভাবিক ভাবেই এহেন প্রতিবাদকে নস্যাৎ করে দিতে চাইছেন। তাঁরা এটাকে ‘হেট আমেরিকা র্যালি’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদীদের ট্রোল করছে ট্রাম্পের দলবল।
কিন্তু এতে দমতে রাজি নন রাজি প্রতিবাদীরা। শিকাগোর গ্র্যান্ট পার্কে এক জনসভায় ৮০ বছরের মেরিলিন রিকেন বলছেন, ”পরিবর্তন এভাবেই আসে।” তাঁর চোখের সামনেই তখন আমেরিকান সংবিধানের এক রেপ্লিকায় সই করছেন প্রতিবাদীরা। সকলেই চাইছেন প্রতিবাদ।

