স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর ।। নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি বলেছেন, ৬ মাসের বেশি তিনি দায়িত্বে থাকবেন না। আগামী বছর ৫ মার্চের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের কাছে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। গত শুক্রবার শপথ নেওয়ার পর রোববার প্রথম বক্তব্যে কার্কি বলেন, “এই দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না। রাজপথের ওঠা তরুণদের আওয়াজের কারণে বাধ্য হয়ে আমি দায়িত্ব নিয়েছি।”
নেপালে জেন-জি (তরুণ প্রজণ্ম)-র নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। আন্দোলনে নিহত হন অন্তত ৭২ জন। এর মধ্যে তিন পুলিশ সদস্যও রয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সহিংস দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।। এ সময় পার্লামেন্ট ভবনে আগুন দেওয়া হয়। রাজনীতিবিদদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের পর নেপালের জেন-জি আন্দোলকারী, প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনায় মতৈক্য হওয়ার পরই কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। কার্কি বলেছেন, জেন জি প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হবে। এই প্রজন্ম যা দাবি করছে, তা হল দুর্নীতির অবসান, সুশাসন ও অর্থনৈতিক সমতা।
সুশীলা কার্কি নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপরিচিত এবং একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তবে তিনি বিতর্কের বাইরেও ছিলেন না। প্রায় ১১ মাসের প্রধান বিচারপতির মেয়াদে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছিল। এখন কার্কি ও তার মন্ত্রিসভার সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নেপালে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো, পার্লামেন্ট ভবন ও অন্যান্য ধ্বংস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং পরিবর্তন চাওয়া জেন-জি প্রজন্মকে আশ্বস্ত করার দায়িত্বভার এখন তার ওপর।

