স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ২৪ এপ্রিল : বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে (Private Hospitals) চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া– এই অভিযোগ নতুন নয়। মেডিক্যাল বিলের ক্রমবর্ধমান অঙ্ক দীর্ঘ সময় ধরেই সাধারণ মানুষের অভিযোগের তালিকায় অন্যতম। বিষয়টি কেন্দ্রেরও নজরে এসেছে। আর তাই, কীভাবে এই সমস্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে চিকিৎসার বিপুল খরচ কমিয়ে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমানো যায়–তা কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনাচিন্তায় ছিল। অবশেষে তা নিয়ে পদক্ষেপ হতে চলেছে বলেই খবর।
সূত্রের মতে, কীভাবে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। আর সেই তালিকার অন্যতম, হাসপাতালগুলিতে প্রাপ্ত নানাবিধ মেডিক্যাল ডিভাইস তথা চিকিৎসার সরঞ্জাম ব্যবহারের খরচে রাশ টানা। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব বর্তমানে কেন্দ্রের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই খবর।
আরও জানা গিয়েছে যে, যে পরিকল্পনাগুলির খসড়া করা হয়েছে, যা বতর্মানে কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যবেক্ষণাধীন–সেগুলি কার্যকর হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলি আর নির্দিষ্ট টাকার অঙ্কের বাইরে ‘চার্জ’ করতে পারবে না। ফলে হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে রোগীর পরিবারকে ‘অতিরিক্ত’ টাকা দিতে হবে না।
কী ধরনের মেডিক্যাল ডিভাইস ব্যবহারের খরচে রাশ টানার কথা ভাবা হচ্ছে? তালিকায় রয়েছে, সিরিঞ্জ, ক্যানুলা এবং গ্লাভস। রয়েছে আরও কিছু দামি সরঞ্জামও। যেমন পেসমেকার, হার্ট ভালভ প্রভৃতি। প্রসঙ্গত, এর আগে একাধিক সংস্থার অন্তর্তদন্তে দেখা গিয়েছে, কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার সরঞ্জাম ব্যবহারের যা খরচ, তার তুলনায় ১০ থেকে ৩০ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হয়। ৩ টাকার সিরিঞ্জের দাম নেওয়া হয় ৩০ টাকা। একটি আইভি ক্যানুলা, যার দাম ৬ টাকা, বিলে সেটারই মূল্য লেখা হয় ১২০ টাকা।
আবার যে সমস্ত সরঞ্জাম এমনিতেই দামি যেমন পেসমেকার, সাধারণভাবে যার দাম প্রায় ২৫,০০০ টাকা। সেটারই দাম প্রাইভেট হাসপাতালে ধার্য করা হয় ২ লাখ টাকা। আবার হার্ট ভালভের দাম (আমদানিকৃত) এমনিতে ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু হাসপাতালগুলিতে তা অনেকটা বাড়িয়ে লেখা হয় প্রায় ২৬ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে।

