স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৪ ফেব্রুয়ারি : রাজ্য ক্রীড়া পর্ষদের অরাজকতার কারণে পাঞ্জাবের এক ব্যবসায়ীর কাছে মান সম্মান খোয়ালো ত্রিপুরা। স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে মেলার আয়োজন করতে এসে এই ব্যবসায়ীকে ক্রীড়া দপ্তরের সচিবের ধমক খেতে হলো। শেষ পর্যন্ত তিনি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য দ্বারস্ত হলেন ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের।
পাঞ্জাবের বাসিন্দা তথা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অলকেশর ভাস্কর এপেক্স ইন্টার্নেশনাল এবং ডিজিলেন মেলা কোম্পানি আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে মেলার আয়োজন করার জন্য গত বছরের ১ ডিসেম্বর আবেদন করেছিলেন রাজ্য ক্রীড়া পর্ষদের কাছে। মেলার আয়োজন করার জন্য এই কোম্পানিকে ৪ ডিসেম্বর অনুমতি দেয় ক্রীড়া পর্ষদ। অনুমতি দেওয়ার পর ব্যবসায়ী অলকেশ্বর ভাস্কর ৬ লক্ষ টাকা জমা দেন। এরপর তিনি নো অবজেকশন এবং মহকুমা শাসকের দপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন লাইন ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুমতি নিয়ে নেন এই মেলার আয়োজন করার জন্য। শুধু বাকি ছিল পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার। এর মাঝে অলকেশ্বর বাবুকে জানিয়ে দেওয়া হয় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামের একটি অংশ অলিম্পিক টেনিস অ্যাসোসিয়েশন ১০ দিনের জন্য বুকিং করেছে ।
এই মেলাটির আয়োজন করার কথা ছিল ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ। ১৯ জানুয়ারি এই কোম্পানি স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান দখল নিতে গেলে তাদেরকে দখল নিতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয় এই মুহূর্তে কিছু টেকনিক্যাল কারণের জন্য তাদেরকে দখল নিতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এই সেই টেকনিক্যাল কারণ এর কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি তাদেরকে। খবর নিয়ে দেখা গেল অপর একটি কোম্পানিকে মেলার আয়োজন করার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ৬ লক্ষ টাকা জমা করে অনুমতি আদায় করার পরেও অলকেশ্বর বাবুকে মেলার আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। সমস্যার সুরাহা বের করার জন্য তিনি দেখা করেছেন রাজ্য ক্রীড়া পর্ষদের সচিবের সঙ্গে। পর্ষদ সচিব তাকে নাকি উত্তর দিয়েছেন উপর থেকে পর্ষদ সচিবের উপর চাপ রয়েছে। এরপর তিনি দেখা করেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তিনি দেখা করেছেন ক্রীড়া দপ্তরের সচিব ডঃ প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি অবাক করার মতো বিষয়টি হলো রাত দশটায় ক্রীড়া দপ্তরের সচিব প্রদীপ চক্রবর্তী এই ব্যবসায়ী অলকেশ্বর ভাস্করকে বহিরাগত বলে হুমকি দেন। অলকেশর বাবু নিজেই এই অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য তিনি বাংলাদেশী কিংবা পাকিস্তানি নন তিনি একজন ভারতীয়।
একজন ভারতীয় হিসেবে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে মেলা করার অধিকার রয়েছে তার। পরে তিনি জানতে পেরেছেন তার আবেদনপত্র বাতিল করে ইউনিভার্সেল কে মেলা করার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেলার আয়োজন করতে এসে কয়েক লক্ষাধিক টাকা বিসর্জন দিলেন এই ব্যবসায়ী। মালপত্র নিয়ে প্রায় ৪০ টি ট্রাক ত্রিপুরার বাইরে ছিল। এই মালপত্রগুলো স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানের কোনো একটি কোনায় রাখার পর্যন্ত অনুমতি দেয়নি ক্রীড়া দপ্তর এবং ক্রীড়া পর্ষদ। উল্টো মালপত্রগুলো রাস্তায় ট্রাকের মধ্যে রেখেই ভাড়া দিতে হয়েছে। তার প্রশ্ন হল ত্রিপুরা সরকার কি শুধুমাত্র ত্রিপুরার লোকেদের জন্য। বাইরের ব্যবসায়ীদের এখানে এলে এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় নাকি। তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি তিনি ইতিমধ্যেই ন্যায় বিচারের জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের

এদিকে ক্রীড়া মহল সূত্রে খবর, মেলার নামে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানকে নিয়ে বড়সড় ঘটালয় মেতে উঠেছে ক্রীড়া দপ্তর ও ক্রীড়া পর্ষদ। ক্রীড়া মন্ত্রীকে ঘুমে রেখে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানকে। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি ক্রীড়া সংগঠন ও। আর এই ক্রীড়া সংগঠনগুলোর কর্তা ব্যক্তিরা মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এক বিশ্রী খেলায় মেতে উঠেছে বলে খবর।

