স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইঞ্জিনিয়ারগণ। নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। ইঞ্জিনিয়ারদের উপর ভিত্তি করেই সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
আজ আগরতলার সুকান্ত একাডেমি প্রেক্ষাগৃহে এসোসিয়েশন অফ সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার অফ ত্রিপুরা এর ষষ্ঠ দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, কাজের কোনরকম ধর্ম হয় না। কাজের কোনরকম পার্টি হয় না। আর এটাই হওয়া উচিত। সংগঠন করার মধ্য দিয়ে একে অপরের উপর বিশ্বাস তৈরি হয়। আগে কর্মচারীদের বদলির ক্ষেত্রে বিশাল লিস্ট তৈরি হতো। বাছাই করে সেই তালিকা তৈরি করা হতো। যে কারণে এতদিন উন্নয়ন হয়নি রাজ্যের। কিন্তু আমাদের সরকার আসার পর আমরা কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। মাত্র ১ বছরে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিনই এধরণের কার্যক্রম করা হচ্ছে। গতকালও উদয়পুরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার প্রকল্প ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। ইঞ্জিনিয়ারদের উপর ভিত্তি করেই এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। কারণ সবকিছুই প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে এখন। আরো বেশি করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপর জোর দিতে হবে ইঞ্জিনিয়ারদের।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। আজ জল জীবন মিশন হোক, পিএম সূর্যঘর হোক, ন্যাশনাল হাইড্রোলজি মিশন হোক বা প্রসাদ প্রকল্প হোক কিংবা সড়ক নির্মাণ – সবক্ষেত্রেই ইঞ্জিনিয়ারদের ছাড়া সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে যে সময়ের মধ্যে সব কাজ করতে হবে। আর এমন কাজ করবেন যেটা মানুষ সারাজীবন মনে রাখেন। এবং আপনাদের কাজ দেখে যাতে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়। আমাদের রাজ্যে কাজ করার সময় মূলত নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি। এই চার মাস বিশেষ করে কাজ করা যায়। বাকি সময় সাধারণত বৃষ্টি মরশুম হয়ে থাকে। তাই এই চার মাস কাজ করে বাকি সময় অন্য কাজ যেমন পেপার ওয়ার্ক সহ ইত্যাদি কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার বলছেন নিউ ইন্ডিয়ার কথা। সেক্ষেত্রে নিউ ত্রিপুরা হলেই নিউ ইন্ডিয়া গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের উপর সরকারের অনেক আশা ভরসা রয়েছে। আপনাদের কাজের উপর ভিত্তি করেই সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের রূপায়ণ সম্ভব। আপনারা হচ্ছেন দেশ গড়ার কারিগর ও ভবিষ্যত গড়ার কারিগর। আপনারা হচ্ছেন সমস্যার সমাধান। ইঞ্জিনিয়াররাই দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করছেন। ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্যে এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে জি +১৪ বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। যা ৮.৫ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প প্রতিরোধী হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি নিয়ে এটা করা হচ্ছে। যা আমাদের জন্য একটা গর্বের বিষয়। এদিন অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছা রক্তদানের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব নিয়েও মূল্যবান আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য রাজীব ভট্টাচার্য, আয়োজক ইঞ্জিনিয়ার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোনা রঞ্জন দেববর্মা, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লক্ষণ সরকার সহ অন্যান্য সদস্য সদস্যা ও নেতৃত্ব। এই উপলক্ষে আয়োজিত রক্তদান শিবির পরিদর্শন করে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

