বাড়িরাজ্যস্মার্ট সিটির কাজকর্ম অসমাপ্ত, অর্থ বরাদ্দ করছে না সরকার, অবৈজ্ঞানিকভাবে চলছে রাস্তাঘাট...

স্মার্ট সিটির কাজকর্ম অসমাপ্ত, অর্থ বরাদ্দ করছে না সরকার, অবৈজ্ঞানিকভাবে চলছে রাস্তাঘাট ও ড্রেইন নির্মাণের কাজ : মানিক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ আগস্ট : আগরতলা শহরে পুর নিগমের কাজকর্ম এবং স্মার্ট সিটির কাজকর্ম নিয়ে সরকারকে কাঠ গড়ায় তুললেন সিপিআইএম। বৃহস্পতিবার সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী মানিক দে বলেন, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১০০ টি শহরকে স্মার্ট সিটি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন আগরতলা শহরের নাম স্মার্ট সিটির অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

কিন্তু তৎকালীন সময়ে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা স্মার্ট সিটির আওতায় আসবে না? তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লেখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার স্মার্ট সিটির আওতায় আনে আগরতলা শহরকে। তারপর কেন্দ্র সরকার বলেছিল স্মার্ট সিটির জন্য ৫০০ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র এবং ৫০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। তারপর কেন্দ্র থেকে ডিপিআর -এর একটি টিম আগরতলায় আসে। তারপর তিন হাজার কোটি টাকার হিসেব দেয় ডিপিআর টিম। তখন রাজ্য সরকারকে তারা বলে আপাতত কাজ শুরু করার জন্য।

পরবর্তী সময় বাকি অর্থরাশি বিভিন্নভাবে প্রদান করা হবে। তারপর বর্তমানে জানা যায় কেন্দ্র থেকে রাজ্য সরকার ৪৯০ কোটি টাকা স্মার্ট সিটি প্রকল্পের কাজের জন্য পেয়েছে। কিন্তু ৫০ শতাংশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারেরও ৪৯০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা, জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫২ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই এখন হাজার কোটি টাকার ব্যাখ্যা সরকারের দেওয়া উচিত। এতে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাত্র ৫৪০ কোটি টাকার মতো কাজ হয়েছে। স্মার্ট সিটির মধ্যে অন্যতম রূপ দেওয়ার কথা ছিল জল নিষ্কাশনের জন্য উন্নতমানের দিন নির্মাণ করা, পার্কিং -এর ব্যবস্থা করা, পুকুর গুলি সংস্কার করে পার বেঁধে দেওয়া, পুরাতন মোটরস্ট্যান্ডে, শকুন্তলা রোড এলাকায় এবং বটতলার পুরাতন টিআরটিসিতে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আধুনিক মানের বহুতল পাকা ভবন নির্মাণ করার কথা ছিল। এছাড়াও অন্যতম দাবি ছিল হকারদের জন্য বসার বন্দোবস্ত করা, আগরতলা শহরে ব্যস্ততম রাস্তা গুলি অল সিজন রোড হিসেবে তৈরি করার কথা ছিল, যেহেতু এখানে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। একই সাথে আখাউড়া রোডে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবারগুলোকে ঢাকায় বন্দোবস্ত বহুতল পাকা ভবনের কথা ছিল।

কিন্তু বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোন বস্তিবাসীর পুনঃ বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানা নেই। সরাসরি পুর নিগমের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলে বলেন গত কয়েক বছরে কেন্দ্র থেকে টাকা আনতে পারে নি উন্নয়নের জন্য। মেয়র দীপক মজুমদার শুধুমাত্র ঘুরছেন আর দেখছেন, একটি বাজারও আধুনিক মানের করেননি। অথচ আগের সরকার আগরতলা শহরের মধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন মার্কেট তৈরি করেছিল ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এবং বস্তিবাসীর পুনর্বাসনের জন্য শহরে বিভিন্ন এলাকায় বহু দল বিল্ডিং নির্মাণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে আগরতলা শহরের মধ্যে বাজারগুলিতে দুর্গময় পরিবেশ। রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। আগরতলা শহরের বহু স্ট্রিট লাইট নষ্ট হয়ে আছে, সেগুলি সংস্কার করার কোন উদ্যোগ নেই। অপরদিকে রাধানগর এলাকা থেকে যে ফুটপাত ব্রীজ হওয়ার কথা ছিল সেটা পর্যন্ত হয়নি। কিন্তু এগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দের ছিল। একটাও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়নি বর্তমান সরকারের আমলে। আরো বলেন, এখন অল্প বৃষ্টিতে আগরতলা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি আরো অভিযোগ তুলে বলেন সঠিক ভাবে ড্রেইন নির্মাণ হচ্ছে না। অবৈজ্ঞানিকভাবে ড্রেইন নির্মাণ করা জল আটকে পড়ছে। এতে শহরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ভাষণবাজি করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা অমল চক্রবর্তী, প্রাক্তন সংসদ শংকর প্রসাদ দত্ত সহ অন্যান্যরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য