স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৪ আগস্ট : দেশ ভাগ ছিল স্বাধীন রাষ্ট্রের বুকে এক দগদগে ক্ষত। স্বভূমে পরবাসী হয়ে পড়ে কোটি কোটি ভারতবাসী। তাদের আত্মনাদ ভারী হয়েছিল আকাশ বাতাস। এই বিভীষিকাময় অধ্যায়কে নব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন প্রজন্মের কাছে এই দিন তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তারপর থেকে রাজ্যের প্রতিবছর দিনটি উদযাপন করা হয়। এ বছরও এই বিভীষিকাময় অধ্যায়কে নব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর।
বৃহস্পতিবার মহারাজা বীর বিক্রম মহাবিদ্যালয় রবীন্দ্র হলে আয়োজিত বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, তিনি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তারপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৪ আগস্ট বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস উদযাপন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আহ্বান করেছেন। এই দিনটি যাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তুলে ধরা হয় তার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা আগামী দিন দেশ পরিচালনা করবে এবং দেশের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করেন তাদের আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সেই বিভীষিকাময় অবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা আসবে। যারা সব সময় নিজেদের জন্য ভাবেন তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই নিজেদের জন্য ভাবার প্রয়োজন আছে, কিন্তু পাশাপাশি নিজের রাষ্ট্র, রাজ্য এবং সমাজের জন্য ভাবার প্রয়োজন।
কারণ এই চিন্তা ভাবনা অনেকের মধ্যে থাকে না। মুখ্যমন্ত্রী সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ইতিহাস সম্পর্কে কতটা ছেলেমেয়েরা জানে সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ইতিহাসের পাতা কখনো মলিন হয় না। আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ইতিহাস সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের অবগত হতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাত পোহালেই আমরা স্বাধীনতা দিবসের উল্লাস পালন করা হবে। কিন্তু এই স্বাধীনতার পেছনে যে কত ক্রন্দন লুকায়িত রয়েছে সেটা জানতে হবে। দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে বহু মানুষ খুন হয়েছে, বহু মা-বোনেরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এখন পর্যন্ত বহু শিশু নিখোঁজ, পাশাপাশি ভিটেমাটি হারা হয়েছে বহু পরিবার। সেগুলি আজ স্মরণ করার দিন।
সেদিন ভুলে গেলে চলবে না। তাহলেই আগামী দিন ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকবে। তাই এই দিনটি ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চালু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে সচেতন করে বলেন, আগামী দিন যাতে এমন ক্ষত তৈরি না হয় তার জন্য লক্ষ্য রাখতে হবে। এ ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হলে এবং ইংরেজদের নীতি অনুযায়ী চললে দেশে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে। দেশে আবার অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সকলকে সচেতন থাকতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন, রাজ্যের পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষ্যনীয়।

