স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৪ আগস্ট : ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট অভিশপ্ত রাতের কথা এখনো ভুলতে পারে নি তেলিয়ামুড়ার বড়লুঙ্গা এলাকার স্বজন হারারা। ১৪ আগস্ট রাতে বড়লুঙ্গা এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায় উগ্রপন্থী। ঘরে ঘরে ঢুকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নিরীহ মানুষকে। এই ঘটনায় ১৬ জন নিরীহ মানুষ প্রান হারায়। কিন্তু রাত পোহালে সকলে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দে মেতে উঠবে। তা আরো হল না। একদিকে সমগ্র রাজ্যের মানুষ যখন স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ঠিক অপরদিকে তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত কৃষ্ণপুরের বড়লুঙ্গা এলাকার মানুষ তখন প্রানের ভয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে।
কারন ১৪ আগস্ট রাতে বড়লুঙ্গা এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায় উগ্রপন্থী। ঘরে ঘরে ঢুকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নিরীহ মানুষকে। এই ঘটনায় ১৬ জন নিরীহ মানুষ প্রান হারায়। সেই বিভীষিকা ময় রাতের কথা এখনো ভুলতে পারেনি স্বজন হারা মানুষ গুলো। বড়লুঙ্গা এলাকায় সেই ঘটনার পর থেকে আর কেউই থাকে না। তবে রয়ে গেছে পুড়ানো স্মৃতি গুলি। মাটির ঘর বৃষ্টির জলে ক্ষয় হয়ে গেছে প্রায়। তবে কিছু কিছু ঘরের মাটির দেওয়াল এখনো রয়ে গেছে। সেই দেওয়ালে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এখনো সেই গুলির ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনার পর হাওড়া নদী দিয়ে অনেক জল গ্রিয়ে গিয়েছে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২০ টি বছর।
দেওয়াল থেকে যেমন এখনো মুছে যায়নি গুলির চিহ্ন, তেমনি স্বজন হারা মানুষ গুলিও এখনো ভুলতে পারেনি সেই অভিশপ্ত রাতের কথা। সেই অভিশপ্ত রাতে স্বামী, পুত্র, কন্যা সহ পরিবারের ৪ সদস্যকে হারিয়েছেন যমুনা সরকার। এই নিয়ে সংবাদের পর জমুনা সরকার সরকারি ঘর, বৃদ্ধ ভাতা পেয়েছেন। বাকি তিনটি পরিবার এখনো সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সেই দিনের ঘটনায় বাবা, ভাই সহ স্বজন হারানো এক ব্যক্তি জানান ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে চার পরিবারের ১৬ জনকে হত্যা করে উগ্রবাদীরা। যাদের মৃত্যু হয়েছে সকলে ওনার আত্বিয়। তিনি আরও জানান ঘটনার দিন রাতে চারিদিকে গুলির শব্দ শুনতে পান। গুলির শব্দ বন্ধ হওয়ার পর ওনারা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তখন উগ্রবাদীরা পালিয়ে যায়। ১৪ আগস্ট দিনটি আসলে ২০০৩ সালের ঘটনার কথা এখনো মনে পরে যায়। তিনি আরও জানান এই ঘটনার পর এত বছর কেটে গেছে কিন্তু কোন সরকারি সাহায্য পান নি। সেই সময় স্বজন হারা পরিবার গুলিকে সরকার থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত পরিবার গুলিকে কোন সাহায্য করা হয় নি। প্রশ্ন হচ্ছে কেন স্বজন হারা মানুষ গুলিকে নিজের ভিটে মাটি হারিয়ে অপরের বাড়িতে দিন যাপন করতে হচ্ছে ? উত্তরটা কি আদৌ মিলবে।

