স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৪ আগস্ট :রাজ্যের শহরাঞ্চল এলাকায় রাস্তার কিছুটা হাল ফেরলেও প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় গেলে এখনো দেখা যায় গ্রামীণ রাস্তাঘাটের কি করুন অবস্থা। গাড়ি বাইক নিয়ে যাতায়াত করা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এমনই এক চিত্র দেখা গেল উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা ব্লকের অধীন কালাগাঙ্গের পার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সাত ও এক নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী রাস্তাটিতে।
দীর্ঘ প্রায় ৭-৮ বছর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকার বসবাসকারী জনগণ। গ্রামের জনৈক এক মহিলা জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর উনার বাড়ির পাশে গার্ড ওয়াল করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই মোতাবিক তার পরিবার বিরোধী দল সিপিআইএম ছেড়ে শাসক দলে যোগদান করেন। কিন্তু আজও ওনার বাড়ির পাশের বেহাল রাস্তার অংশটুকু গার্ড ওয়াল করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, উনার বসতি ঘর থেকে রাস্তাটির উচ্চতা বেশি থাকায় বসত ঘরটি অনেকটাই নিচে পড়ে গিয়েছে। ফলে প্রায়শই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে।
কিছুদিন পূর্বেও এক দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে ওনার বসত ঘরে গিয়ে পড়েনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি। তাই তিনি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় এক স্কুল পড়ুয়া জানায়, বর্ষা মৌসুমে পায়ে হেটে চলাচলের পর্যন্ত অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাটি, তাদের বাড়িতে নিজস্ব ছোট গাড়ি থাকায় তখন তার পরিবার সহ আশপাশের লোকজন রাস্তায় কিছু মাটি কংক্রিট ফেলে কোনমতে চলাচলের উপযোগী করেন তুলেন। কিন্তু তাতেও সমস্যা দূর হয়নি। এই রাস্তা দিয়ে বড় গাড়ি তো চলেই না, ছোটখাটো অটো রিক্সা কিংবা মালবাহী গাড়ি চলাচলের জন্যও উপযোগী নয় রাস্তাটি। এতে যান চালক সহ স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী এবং গ্রামের মানুষ হাট বাজারে যেতে হলেও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। তাই ওই কিশোরী ও চাইছেন রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। অন্যদিকে এক পন্যবাহী ছোট গাড়ির চালক জানান দীর্ঘ বছর থেকেই তারা এই সমস্যায় জর্জরিত। স্থানীয় পঞ্চায়েত, জনপ্রতিনিধি এমনকি ব্লক স্তরেও রাস্তাটি সংস্কারের আবেদন জানানো হলেও কোন কর্ণপাত করেননি সংশ্লিষ্টরা। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের আবেদন জানিয়েছেন গাড়ি চালক। এখন দেখার বিষয় সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ কি ভূমিকা গ্রহণ করেন। সেদিকেই তাকিয়ে গ্রামবাসী।

