স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩০ জুলাই : ২০২৪ সালের ৮ ই আগস্ট উদয়পুরের বিশিষ্ট শিক্ষক অভিজিৎ দেকে উদয়পুরের সেন্ট্রাল রোড থেকে কতিপয় কয়জন দুষ্কৃতিকারীরা এক সমাজ বিরোধীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে অভিজিতের স্ত্রীর কাছে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল বলে অভিযোগ। অভিজিতের স্ত্রী ৩০ লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করা অভিজিৎ কে বেদম মারধর করে উদয়পুরের কিছু সমাজদ্রোহীরা। উল্টো পুলিশ মিথ্যা অভিযোগে অভিজিৎকে থানায় নিয়ে ঢুকিয়ে রাখে।
পরের দিন ৯ আগস্ট অভিজিতের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় প্রথমে পুলিশ গোমতী জেলা হাসপাতালে সেখান থেকে চিকিৎসকরা জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। দশ আগস্ট অভিজিতের মৃত্যু হয় জিবি হাসপাতালে। তারপরে উদয়পুরবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিরোধী দলের সব দলের নেতারা এমনকি বিরোধীদলের বিধায়করা যখন আসতে শুরু করেছে তখন বাধ্য হয়ে শাসক দলের নেতারা এসে সান্তনা দিয়ে গেছে অভিজিতের পরিবারকে। অভিজিতের মৃত্যুর দুদিন পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অভিজিতের বাড়িতে এসে বলে গিয়েছিল যারা অভিজিৎকে হত্যা করেছে তাদের প্রত্যেকের ন্যায় বিচার হবে। তিথি অনুযায়ী আজ বুধবার এক বছরের শ্রাদ্ধ করেছে অভিজিতের ছেলে অঙ্কিত দে ও অভিজিতের স্ত্রী মিত্রা দাস। পাশে বসে আছে অভিজিতের বৃদ্ধ মা লীলা রানী দে।
কিন্তু ছেলে হারা মা কিছুক্ষণ পর পর সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছে। অভিজিতের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন তার স্বামীকে যারা খুন করেছে তাদের বিচার আজও হয়নি। বুক ফুলিয়ে উদয়পুর বাজারে কিংবা আগরতলা রাজপথে ঘুরে বেড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল খুনিদের বিচার হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আজও বিচার হয়নি। তিনি আরো বলেন, পুলিশের দুর্বল ধারার ফলে আসামিরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছে। সব বিচারের দায়ভার উপরওয়ালার কাছে ছেড়ে দিয়েছেন অভিজিতের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ছেলে ও পরিবারের লোকজনের। অভিজিতের স্ত্রী বলেন তার ছেলে এখনো বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পায়। কখন যেন কি হয়।

