স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৮ জুলাই : হীরা মডেল ত্রিপুরায় স্মার্ট সিটি হবে আকর্ষণীয়। কিন্তু স্মার্ট সিটি করতে গিয়ে বর্তমানে আগরতলা শহরের অবস্থা হয়ে উঠেছে বীভৎস। বর্ষা বনাম উন্নয়ন যেন হাঁড় ভেঙে ফেলছে পথচারীদের। একদিকে বর্ষার মরশুম শুরু হয়েছে, অপরদিকে শহরের মধ্যে চারিদিকে শুরু হয়েছে উন্নয়ন মূলক কাজের কর্মযজ্ঞ। আগরতলা স্মার্ট সিটি এবং আগরতলা পুর নিগম কর্তৃপক্ষ কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু একদিকে শহরের রাস্তাঘাটে প্রসস্থ অনেক বেশি কম। তারপর অধিকাংশ ব্যস্ততম রাস্তায় ডাবল লেন। সড়ক প্রশস্ত করার কথা না ভেবে প্রশাসন রাস্তার দুপাশের কভার ড্রেনের কাজে হাত লাগিয়েছে। ফলে অধিকাংশ রাস্তার ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে।
অপরদিকে রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। রাজধানীর বটতলা থেকে বড়জলা পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। যান চলাচলের অযোগ্য রাস্তা। প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি এই ব্যস্ততম রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে। এক দিকের ট্রাফিক জ্যাম অপরদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থা, আবার তার উপর কের চৌমুহনি থেকে দুর্গা চৌমুহনি পর্যন্ত কভার ড্রেন নির্মাণের কাজে হাত লাগিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিগম কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মোটর স্ট্যান্ড। এই মোটর স্ট্যান্ড এলাকায় অত্যাধুনিক মল তৈরি করতে গিয়ে পথচারীদের দুর্ভোগ চরণে তুলেছে স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষ। মোটর স্ট্যান্ডের একটা বড় অংশ নিয়ে গড়ে উঠছে এই আধুনিক মল। একদিকে অটো চালকদের অস্থায়ী স্ট্যান্ড, অপরদিকে মলের কাজ চলছে ঝড় গতিতে। আর পথচারীদের পায়ে হেঁটে যাতায়াতের রাস্তা এক প্রকার ভাবে নেই বলা চলে। সেখানে এই প্রধান সড়ক হয়ে উঠেছে যেন গলিপথ। সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এই রাস্তায় কয়েক হাজার গাড়ি আটকে পড়ছে। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা। এবং অধিকাংশ টমটম, অটো, দ্বিচক্র যান এই রাস্তাটিতে চলাচল করে।
স্কুল কলেজ হাসপাতাল অফিস আদালত সব জায়গায় এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় অধিকাংশ পথচারীকে। কিন্তু এই রাস্তাটি অবস্থা এতটাই তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে যে মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। তার মধ্য দিয়ে সঠিক সময় মত গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ১০ মিনিটে রাস্তা এক ঘন্টায় যেতে হচ্ছে। তারপর এ রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতের মতো অবস্থা নেই। প্রতিদিন ঘটছে দ্বিচক্র এবং ত্রিচক্র যান দুর্ঘটনা। তারপর যদি স্কুল বাস এ রাস্তা দিয়ে অফিস টাইমে চলাচল করে তাহলে পথচারীদের অবস্থা ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এর পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকার ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, স্মার্ট সিটির কাজের কারণে তাদের পেটে লাথি পড়েছে। কেনাবেচা একেবারে কারে উঠেছে। অন্যদিকে গত কয়েকদিন আগে এলাকায় অটোচালক এবং শপিংমলের নির্মাণকারী সংস্থার সাথে ঝামেলা বেধেছে। নির্দিষ্ট স্থানে অটো চালকদের অস্থায়ী স্ট্যান্ড থাকতে দিচ্ছে না। আরো রাস্তা দখল করতে চাইছে নির্মাণকারী সংস্থা। শেষ পর্যন্ত আগরতলা পৌর নিগমের মেয়রের কাছে গেছেন অটো চালকরা। অটো চালকদের সমস্যা সমাধানের জন্য এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন নিগম কর্তৃপক্ষ।
এক প্রকার ভাবে বলা যায় আগরতলা শহরে গত কয়েক বছরে যেমন জনসংখ্যা ও ঘনবসতি বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা। অথচ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে রাস্তাঘাট প্রশস্ত না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে দিন দিন। মন্ত্রী মিনিস্টার ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য মনে হয় যেন আগরতলা শহরে ট্রাফিক পরিসেবা নেই। কোথাও ট্রাফিক সিগন্যাল নষ্ট, কোথাও ট্রাফিক জ্যাম না এড়িয়ে ট্রাফিক কর্মীরা জরিমানা আদায় করছে, আবার কোথাও মন্ত্রীর গাড়িকে পাশ দিতে শহরে ট্রাফিক জ্যাম বাড়াচ্ছে ট্রাফিক কর্মীরা। যাইহোক শহরের উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করতে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন। তিনি বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে দুর্গাপূজার আগে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করতে হবে। তবে প্রকৃতির সঙ্গ দিতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দুর্গাপূজা। আর একমাস পরেই শুরু হয়ে যাবে ধুম ধাম বাজার।
কেনাকাটা করতে শহরে আসবে মফস্বলের মানুষ। দুর্গাপূজার আগে যদি উন্নয়নমূলক কাজ শহরে সমাপ্ত হয় তাহলে পথচারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। না হলে শহরে বারোটা বেজে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকের মতে একসাথে গোটা শহরে উন্নয়নমূলক কাজে হাত লাগানো সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে কাজে হাত লাগানো প্রয়োজন ছিল সরকারের। মানুষ রাস্তায় বের হয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা জাতীয় সড়ক নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছেন সারা বছরে মাত্র চার মাস সময় পাওয়া যায় রাস্তা নির্মাণ করার। তাই বাকি সময় অফিসে ফাইল স্বাক্ষর করার কাজ সেরে ফেলুন। আর বাকি চার মাস ধুমধাম করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য বলেছেন। অথচ স্মার্ট সিটির ক্ষেত্রে নিগম ও প্রশাসনের অন্য মনোভাব! এদিকে রাজধানীর গোর্খাবস্তি এলাকাটি শহরের অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা। পাশাপাশি এটি ভিআইপি রাস্তা। অথচ দেখা যাচ্ছে প্রজ্ঞা ভবনের প্রবেশ মুখ থেকে মহাকরণের কিছুটা আগে পর্যন্ত ডিভাইডার দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করার ব্যবস্থা আটকে রেখেছে প্রশাসন। কেউ গাড়ি বা বাইক নিয়ে রাস্তা অতিক্রম করতে গেলে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার দূরে গিয়ে রাস্তা অতিক্রম করতে হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতাগুলি শহরবাসীর কাছে মারাত্মক হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিন দিন। অথচ ভুরুক্ষেপ নেই বিলাসবহুল গাড়িতে করে শহরে ঘোরা নেতা মন্ত্রীদের। তাদের জন্য আছে ট্রাফিক, সাধারণ মানুষের জন্য কে আছে প্রশ্ন অবশ্যই উঠছে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গাড়িতে বসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে।

