স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৮ জুলাই : টিটিএএডিসি প্রশাসনের নির্দেশে সাতটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলির প্রতিবাদে লংতরাই ভ্যালি মহকুমার ছাওমনু বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস তালা ঝুলিয়ে দিল এলাকাবাসী। সোমবার সকাল থেকে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ফেরাতে রাস্তায় নেমেছে জনগণ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ছাওমনু এলাকার সপ্তরাম পাড়া সহ বিভিন্ন স্কুলগুলির শিক্ষক স্বল্পতায় ভুগছে। এমনকি ছামনু বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন ১১৯টি বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে ৬০টি বিদ্যালয় চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুলে এই একজন শিক্ষককেও বদলি করে দিয়েছে গুড গভর্নেন্স। জানা যায় এমন ৭টি স্কুল থেকে শিক্ষকদের বদলি করা হয় এরই প্রতিবাদে এলাকাবাসীরা সোমবার ছামনু বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস এ তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শক মোসেস দেববর্মা জানান বদলির বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ।
তিনি জানিয়েছেন মোট ৬০ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একজন শিক্ষক দ্বারা পঠন পাঠন চলছে। এর মধ্যে গত ২৩ জুলাই যে বদলির তালিকা বের হয়েছে তার মধ্যে দেখা গেছে চন্দ্র মোহন জেবিএল স্কুল, বিশ্বনাথ জেবি স্কুল, সর্প কুমার জেবি স্কুল সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আগে থেকেই একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে প্রধান পাঠান চলছিল। এর মধ্যে বদলির তালিকা প্রকাশ হয়েছে। তিনি আদেশ পালন করছেন। এখন এলাকাবাসীর দাবি বদলির আদেশ বাতিল করতে হবে, নাহলে তার পরিদর্শকের অফিস তালা খুলবে না। কারণ যেসব বিদ্যালয়ে একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে পঠন পাঠন চলছে সেই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির পর এখন পঠন-পাঠন কিভাবে চলবে সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নেতৃত্ব বারবার দিল্লি গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি এবং বিভিন্ন আলাপ আলোচনার কথা বলে রাজ্যে এসে সহজ সরল জনজাতি অংশের মানুষের সামনে চোখের জল ফেলছে। অথচ বাস্তবে উন্নয়ন কতটা হচ্ছে সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ৬০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে যদি একজন শিক্ষক দ্বারা পঠন-পাঠন চলে তাহলে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির শিক্ষা ব্যবস্থা আগামী দিন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? শুধু তাই নয়, সূত্রে খবর রাজ্যের পাঁচশোর অধিক বিদ্যালয় মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠন চলছে। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না বিলাসবহুল গাড়ি, বাংলো আর সামাজিক মাধ্যমে এসে কিংবা জনজাতি অংশ মানুষের সাথে আলিঙ্গন করে শুধুমাত্র লোক দেখানো ভালোবাসাই হয়, বাস্তবে উন্নয়ন হয় না বলে শিক্ষার হাড় ভেঙে যাচ্ছে। হয়তো এটাই টিপল ইঞ্জিনের সুফল।

