স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৯ জুলাই : সুশাসন জামানায় শাসকদলের স্ব-দলীয়রাই এখন স্ব-দলীয়দের বিরুদ্ধে কলকাটি নাড়তে শুরু করেছে। ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটলো কমলপুর মহকুমায়। মহকুমার পূর্ব লাম্বুছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান গৌতম ঘোষ গত ৭ জুলাই পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এর কন্দপাড়ায় গিয়ে মদ মত্ত অবস্থায় একটি বাড়িতে ঢুকে বিছানায় শুয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তে বাড়ির গৃহকর্তা এবং গৃহিনী বাড়িতে ছিলেন না।
ছিল শুধুমাত্র এক নাবালিকা কন্যা। এই নাবালিকা কন্যার মায়ের বক্তব্য উপ-প্রধানের এমন পরিস্থিতি দেখে কন্যাটি হতবাক হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। মেয়েটির মা-বাবা বিকেলে বাড়িতে এলে মেয়েটি সমস্ত কথা খুলে বলে এবং তারা গৌতম ঘোষকে তখন ঘর থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনাটি পাঁচ কান হতেই ধোলাই জেলা সভাধিপতি সুস্মিতা দাসের স্বামী বিবেক দাস সেই বাড়িতে গিয়ে নাবালিকার মাকে থানায় মামলা করার জন্য বলে। থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ৫ লক্ষ টাকা এই নাবালিকার মাকে পাইয়ে দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছে এই নাবালিকার মা।
পাঁচ লক্ষ টাকার প্রলোভনে পড়ে সেই পরিবার ১১ জুলাই গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে কমলপুর থানায় মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু অবশেষে ৫ লক্ষ টাকা না পেয়ে শনিবার গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিল এই নাবালিকার পরিবার। গৌতম ঘোষ পূর্ব লামবোছড়া পঞ্চায়েতের উপ প্রধান ই নন, তিনি ১২ নম্বর শক্তি কেন্দ্রের কনভেনার ও। তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত এলাকায়। কিন্তু প্রশ্ন হল জেলা সভাধিপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন মহিলার স্বামী যদি নিজেই এভাবে শাসক দলের লোক কে করে থাকে তাহলে সেই দলের লোক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে কতটুকুই বা ভাবমূর্তি স্বচ্ছ থাকবে। পাশাপাশি একজন মদপ্যকে উপপ্রধান ও কনভেনার এর দায়িত্ব দিয়ে দল ও কি সঠিক কাজ করেছে সেটাও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসল বিষয় টা হলো অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালে এমনটাই হবার কথা।

