স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৭ জুলাই : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে সিঙ্গেল এক্সরে মেশিন দিয়ে চলছে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল। হাড় ভাঙ্গা রোগীকে দীর্ঘ ছয় থেকে সাত ঘন্টা অপেক্ষার পর এক্সরে করানো হয়। সাধারণ আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের এক্সরে করার পর পরের দিন ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে বলে জানা যায় এক রোগীর কাছ থেকে। অপর এক রোগী বলেন সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেল এক্সরে করানো সম্ভব হয়নি। চার ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আরো কতক্ষণ সময় লাগবে বলতে পারছেন না।
এভাবেই চলছে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের গর্বের জিবি হাসপাতাল। অন্যদিকে বিশালগড় থেকে আসা এক রোগীর পরিবার জানায়, সকাল ৭ টার সময় এসে লাইন ধরেছেন, দুপুর তিনটা বাজে, অথচ এখনো এক্সরে করতে পারেননি। আরো দু’ঘণ্টা সময় লাগবে বলে ধারণা। রোগীর পরিবার আরো জানান, গরিব মানুষের জন্য আর যাওয়ার জায়গাও নেই। তারা দূর-দূরান্ত থেকে জিবি হাসপাতালে ছুটে আসে বলে জানান তিনি। এক মহিলা জানান, এক্সে করতে যেসব রোগীদের আনা হয় তার মধ্যে অধিকাংশই ব্যথা বেদনা নিয়ে আসেন। অথচ ৭ থেকে ৮ ঘন্টা অপেক্ষার করতে হয় এক্সরে করতে। আশ্চর্যের বিষয় একটি বিদ্যুতিক পাখা পর্যন্ত নেই এক্সরে কক্ষের সামনে।
ফলে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অপর এক মহিলা জানান নিজের ভাবতেই অবাক লাগে এটা হাসপাতাল কিনা অন্য কিছু। তারা জানান, এক্সরে করতে একদিন কেটে যায়। কারণ বিকাল চারটার আগে যদি এক্সেরে না হয় তাহলে ডাক্তারও দেখানো যায় না। রাতে বাড়ি ফিরে আবার পরের দিনের ডাক্তার দেখানোর জন্য গাড়ি ভাড়া দিয়ে আসতে হবে বলে জানান এদিন। এই ধরনের অভিযোগের পর এটা বলার অপেক্ষায় রাখে না, মানুষের অন্যতম দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে জিবি হাসপাতাল। পরিষেবা দিতে যদি এত সময় লাগে তাহলে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু কোন আশ্চর্যের বিষয় নয় জি বি হাসপাতালে। সরকারি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রোগীরা দাবি করেন সরকার যাতে একটু নজর দেয় জিবি হাসপাতালের দিকে। কবে জিবি হাসপাতালের হাল ফিরবে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্ধিহান রয়েছে রাজ্যবাসীর মধ্যে। এভাবে খবরের শীর্ষস্থান দখল করলে জিবি হাসপাতাল থেকে মানুষের ভরসা উঠে যাবে।

