স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৮ জুলাই : বিকাশ ত্রিপুরায় মন্ত্রী বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির সাথে মাশুল বৃদ্ধি হচ্ছে রাজ্যের বিদ্যুৎ এবং পাইপলাইন গ্যাসের। সংবাদ মাধ্যমকে ঘুমে রেখে রাজ্যে আবারো বৃদ্ধি করা হয়েছে বিদ্যুৎ মাশুল এবং পাইপলাইন গ্যাসের মূল্য। গত ৬ জুলাই থেকে বিদ্যুৎ এবং পাইপলাইন গ্যাসের লাগাম ছাড়া মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্য সরকারের সড়ক উন্নয়ন করের হার সাড়ে পাঁচ শতাংশ হারে সড়ক উন্নয়ন করের বৃদ্ধি হয়েছে। শুধুমাত্র ত্রিপুরা রাজ্যে সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত এই কর দিতে হয় পাইপ লাইন গ্যাস ভোক্তাদের। জানা যায়, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো পাইপলাইন গ্যাসের উপর সড়ক উন্নয়নের কর আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে উনিশ শতাংশ হারে আরোপিত এই করের পুরোটা মেটাতে হয় ভোক্তাদের। পাশাপাশি রয়েছে মূল্য যুক্ত কর। যা ৪ শতাংশ। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় বাড়িঘরে ব্যবহৃত প্রতিঘন মিটারে গ্যাসের মূল্য ৩৯ টাকা ৮৭ পয়সা।
তা গত ৬ জুলাই ৯৩ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৮০ পয়সা। অপরদিকে সরকারি আবাসে ব্যবহার করা পাইপলাইন গ্যাসের বর্তমান মূল্য প্রতি ঘনমিটার ৪৪ টাকা ৬৮ পয়সা থেকে এক টাকা ৩৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৬ টাকা ২ পয়সা। অপরদিকে প্রতি ইউনিট কিছু ৭৭ পয়সা বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা কার্যকর হয়েছে এপ্রিল মাস থেকে। আর বর্ধিত বিল আদায় শুরু হয়েছে জুন ও জুলাই মাসের বিলের সাথে। মানুষকে ঘুমে রেখে বিদ্যুৎ বিল এবং পাইপলাইন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এবার রাজ্যে সরব হতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী জানান, বিদ্যুৎ এবং পাইপলাইন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১০ জুলাই রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে কংগ্রেস।
সদর জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দুপুর ১২ টায় হবে কর্মসূচি। তিনি বলেন এভাবে মূল্যবৃদ্ধি করে মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া কোনভাবেই মেনে নেবে না কংগ্রেস। মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে কংগ্রেসের। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সরকারের এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎ নিগম বেসরকারিকরণ করা। পাশাপাশি দাবি জানান পাইপলাইন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির উপর থেকে সড়ক কর প্রত্যাহার করতে হবে সরকারের। একই সাথে বিজেপির সমাজদ্রোহীদের গ্রেফতার করার দাবী জানান তিনি। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা সহ অন্যান্যরা।

