Wednesday, August 10, 2022
বাড়িরাজ্যপরিবর্তনের যে ঢেউ উঠে এসেছে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে : মানিক

পরিবর্তনের যে ঢেউ উঠে এসেছে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে : মানিক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৯ জুন : সামনে বড় রাজনৈতিক সংগ্রাম অপেক্ষা করছে। ঘরে বসে থাকলে চলবে না। লড়াই করতে ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিজেপির দুর্বৃত্তরা ভোটে বাধা দিলে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রতিহত করতে হবে। না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ৫১, ৫২ মাসে বুঝা গেছে বামফ্রন্টের বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু কলকাতা থেকে যে ভোটে পাখিরা উড়ে আসছে তারা বামফ্রন্টের বিকল্প হতে পারবে না। তাদের প্রয়োজন আগে তারা নিজের রাজ্য সামাল দেওয়ার।

কারণ পশ্চিমবঙ্গে যেসব দপ্তরে চাকরি হয়েছে সবগুলোই দুর্নীতির মাধ্যমে হয়েছে। সেখানেও লুট করা হচ্ছে। যে পরিবর্তনের ঢেউ রাজ্যে উঠেছে, সেই ঢেউ আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী রঘুনাথ সরকারের সমর্থনে যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে বক্তব্যর মধ্যে দিয়ে আক্রমণ করে এমনটাই বললেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। তিনি বলেন,

ত্রিপুরার মানুষের দাদা দিদির অভাব নেই। তাই ধার করে আর দাদা দিদি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনতে হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষকে বিভ্রান্ত করতে রাজ্যে আসছে। তাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন না করে বামফ্রন্ট মনোনীত ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী রঘুনাথ সরকারকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য আহ্বান জানান মানিক সরকার।    বিরোধী দলনেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, বলির পাঠা বানানো হয়েছে আগের মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু তিনি কেন্দ্রের নির্দেশে কাজ করছিলেন। এবং কেন্দ্রের নির্দেশে ত্রিপুরার সর্বনাশ করেছেন। কিন্তু প্রভাবশালী এই মুখ্যমন্ত্রীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলছেন প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি বলছেন ২০২৩ -এ উনাকে সামনে রেখে নির্বাচন সংঘটিত হবে। এর তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।    বিরোধী দলনেতা বলেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার শুধু ত্রিপুরা রাজ্যে নয়, গোটা দেশে মানুষের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে। কৃষি আইনের পর অগ্নিপথ নামে স্কিম চালু করে যুব শক্তির উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি নরেন্দ্র মোদি সরকারের জাতীয় স্তরের একটি আক্রমণের কৌশল। আসন্ন উপনির্বাচনে যুবক যুবতী সহ তাদের অভিভাবকদের এর বিরুদ্ধে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ভোটবাক্সে বিজেপিকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।     

পাশাপাশি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরায় এসে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন তার রেকর্ড এখনও রয়ে গেছে। ২৯৯ টি প্রতিশ্রুতি মধ্যে কোন প্রতিশ্রুতি পালন হয়নি। কর্মসংস্থানের অভাব, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মতো কেন্দ্রীয় বেতনক্রম মিলে নি। এখনো সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের থেকে ২৭ শতাংশ স্কেল কম পেয়ে বঞ্চিত হয়ে আছে। এদিকে নেশা মুক্তি যে স্লোগান তোলা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হয়নি। নেশাগ্রস্ত হয়ে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এর পেছনে জড়িত মন্ডলের নেতারা। এখন বোঝা যাচ্ছে এটি বিজেপি’র একটি কৌশল স্লোগান বলে তীব্র সমালোচনা করেন মানিক সরকার। আয়োজিত জনসভায় মনোনীত প্রার্থী সহ বামফ্রন্টের অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য