Tuesday, June 28, 2022
বাড়িরাজ্যনেশা বিরোধী অভিযানে নেমে লংকার কান্ড সৃষ্টি করলেন শাসক দলের কর্পোরেটর

নেশা বিরোধী অভিযানে নেমে লংকার কান্ড সৃষ্টি করলেন শাসক দলের কর্পোরেটর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২২ মে : সময় কম, কাজ বেশি! বক্তা নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠানে গিয়ে গত কয়েকদিনে এই ভাষণটি মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে একাধিক বার শোনা গেছে। গত চার বছরে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা করতে পারেনি  প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার।

এবার শহরের দুর্জয়নগর শান্তি সংঘ ক্লাব এলাকায় হাই কমান্ডের নির্দেশে কর্পোরেটর সুপর্ণা দেবনাথ দলবল নিয়ে নেশা বিরোধী অভিযানে নেমে আইন হাতে তুলে নেন। এলাকায় বাড়িঘরে চালানো হয় অভিযান। পরবর্তী সময় দুই বাড়ির লোকজনদের সাথে কথা কাটাকাটি করে মারধর করে দলের লোকেরা।ভাঙচুর করা হয় বাড়ির ঘর বলে অভিযোগ।কর্পোরেটরের এহেন দায়িত্বের খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। ঘটনার সূত্রে জানা যায় দূর্জয়নগর শান্তি সংঘ ক্লাবের কর্মকর্তা এবং এলাকার কর্পোরেটর সুপর্ণা দেবনাথের উদ্যোগে হলিক্রস স্কুল সহ দূর্জয়নগর এলাকায় নেশা বিরোধী অভিযানে নামেন।

 এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ি ঘরে গিয়ে নেশা থেকে দূরে থাকার জন্য সচেতন করেন। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে দুই বাড়িতে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাড়ির লোকজনদের মারধর করে কর্পোরেটর প্রধান এবং উপপ্রধান এর নেতৃত্বে। বাড়িঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো বাড়ির মহিলা এবং মেয়েদের পর্যন্ত এ দিন  কর্পোরেটরের দলের লোকেরা বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ করেন। সেই বাড়ির লোকজনদের অভিযোগ, এদিন কর্পোরেটেরের নেতৃত্বে এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত এসে প্রথমে বাড়ির গেট এবং ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। বাড়ির মেয়েটি মোবাইলের সমস্ত কিছু রেকর্ড করতে চাইলে ঘর থেকে মহিলা এবং মেয়েকে বের করে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। কিন্তু বলা হয়েছিল তাদের যদি সন্দেহ হয়ে থাকে তাহলে বাড়ির লোকজনদের নিয়ে মেডিকেল করার জন্য। কিন্তু তাদের কোন কথা শুনতে চাইনি অভিযানে আসা দলবলের লোকেরা।

এদিকে কর্পোরেটর জানান, এদিন বাড়ি-বাড়ি অভিযানে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এলাকার একটি বাড়িতে প্রবেশ করতেই বাড়ির লোকজনেরা তাদের উপর আক্রমণ চালায়। আর বাড়ির অভিযুক্ত নেশা বিক্রেতারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে দু-তিনজন যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে এলাকাবাসী। এবং কাজের বাড়ি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নেশা সামগ্রী এবং ধারালো অস্ত্র। সম্প্রতি এলাকায় চুরি ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অভিযান সংগঠিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই গরম হয়ে উঠেছে শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহযোগিতা নিতে হয়। এদিকে আক্রান্ত হওয়া এক মহিলার অভিযোগ নেশা বিক্রি সাথে জড়িত এলাকার পানতুষ, গদাই, নকল, সন্তোষ। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেশার ব্যক্তির সাথে জড়িত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এয়ারপোর্ট থানার। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে এদিন অভিযানের সময় কর্পোরেটর কেন পুলিশের সহযোগিতা নেন নি। এবং এভাবে আইন হাতে নিয়ে মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর করার অধিকার একজন কর্পোরেটেরকে কে প্রদান করেছে। যদি নেশা বিরুদ্ধে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই জরুরী ছিল। কিন্তু দলবল নিয়ে মানুষের বাড়িঘরে আক্রমণ চালানো এবং মহিলা পেটানোর ঘটনায় বর্তমান সরকারকে আরও একবার কুলুষিত করে দিয়েছে এদিন। এবং প্রশ্ন সে একজন কর্পোরেটর হয়ে তিনি কিভাবে পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে এধরনের ঘটনা প্রশ্রয় দিয়েছেন। এমন ধরনের প্রশ্ন উঁকি মারছে স্থানীয় অভিজ্ঞমহলের। নেশার বিরুদ্ধে সচেতন করাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু অভিযানের নাম করে এভাবে মহিলা পেটানো এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা হয়তো কোন আইনে দেওয়া হয়নি একজন কর্পোরেটরকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য